হোম > খেলা

বিশ্বকাপ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম!

আহমেদ বিন পারভেজ

এভাবে কি বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব?

সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এ মুহূর্তে ভারতের মাটিতে ক্রিকেট খেলা নিরাপদ নয়। এ বিশ্বকাপে নিজেদের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় শিফট করার জন্য আগের দাবিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেটা এখনো পুরোপুরি মেটেনি। এখনো পর্যন্ত আইসিসি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি ভারতের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো খেলতে পারবে কি না- সে বিষয়ে।

কিন্তু বিষয়টি খুবই বড়। কারণ, বিশ্বকাপ নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছিল, এখন মনে হচ্ছে পুরো বিশ্বকাপ আয়োজনটাই ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা বিশ্বকাপ। তার আগে জানুয়ারির শেষদিকেই প্রতিটি দলকে তাদের নানা বিষয় পরিষ্কার করতে হয়। কিন্তু ভারতে খুব সহজ বা স্বাভাবিকভাবে এবার বিশ্বকাপ আয়োজন করা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ দিই। একজন ক্রিকেটার পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন, পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। সেখানে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব রেখেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

এ ধরনের অনেক ক্রিকেটার আছেন। খুব সম্ভবত ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এমন কিছু নিয়ম ডিফল্ট বা পদ্ধতিগতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এটা বিশেষভাবে শুধু ক্রিকেটারদের জন্য নয়। মূলত পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। অর্থাৎ, যদি কারো জন্ম পাকিস্তানে হয়ে থাকে, তাহলে তার ভিসা খুব সহজে দেওয়া হবে না; কিংবা সরাসরি ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

ভারতের এই কট্টর ভিসানীতির চক্করে যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটার পড়ে গেছেন। তাদের মধ্যে আলি খান আছেন। আলি খান খুবই ইন্টারেস্টিং একটি চরিত্র- যিনি দলের মূল পেস বোলারদের একজন।

আলি খান ইনস্টাগ্রামে স্টোরি দিয়ে বলেছেন—‘আমি ভিসা পাইনি, তাই এখন কেএফসিতে চিকেন খাচ্ছি।’

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়- ওমান, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ যেসব দলে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার আছেন, তারাও হয়তো ভারতের ভিসা পাবেন না। কারণ, এ মুহূর্তে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো নাগরিকের জন্য ভিসা দেওয়া কার্যত বন্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি বোর্ড এবং এতগুলো আলাদা আলাদা দেশ সমস্যায় পড়ছে। আমি এক-দুটি দেশের কথা বলছি না, অনেক দেশই এ সমস্যায় পড়েছে। বাংলাদেশ আলাদাভাবে সমস্যায় পড়েছে ঠিকই; কিন্তু ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়।

এটা আইসিসির এককভাবে সমাধান করার মতো বিষয়ও নয়, কারণ এটা সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও নীতির ব্যাপার।

এই নিয়মের কারণে ২০ জনের বেশি ক্রিকেটার, যাদের জন্ম পাকিস্তানে বা যারা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, তারা সবাই ভিসা জটিলতায় পড়ছেন।

এখন এসব সমস্যার ভেতর দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হবে। কিন্তু আর মাত্র তিন সপ্তাহের মতো সময় বাকি। এর মধ্যে কবে দলগুলো তাদের স্কোয়াড চূড়ান্ত করবে!

ধরা যাক ওমান দলে পাঁচ-ছয়জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছে, যারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের দলের মূল শক্তি। এ ধরনের বিশ্বকাপ বা টুর্নামেন্ট কি এভাবে চালানো সম্ভব?

আইসিসি কি এই পরিস্থিতি নিয়ে সত্যিই চিন্তা করছে? যখন ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে অন্তত ছয়টি দেশ সমস্যায় পড়ে, তখন আইসিসি কি এটাকে হালকাভাবে নিতে পারে?

একটি উদাহরণ দিই। ২০২৩ সালে ওডিআই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতে গিয়েছিল এই শর্তে যে, ২০২৫-এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে আসবে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২০২৫ আসতেই ভারত শেষ মুহূর্তে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। দুদেশের সম্পর্কের অবনতির কারণ দেখিয়ে তারা অংশ নিতে অস্বীকার করে। যেখানে শুধু পাকিস্তানের এককভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ার কথা, সেখানে এক মাসের মধ্যেই আইসিসি শুধু ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচসহ বহু ম্যাচ সরিয়ে নেয়। এই ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে বৈশ্বিক ক্রিকেট ইভেন্টগুলো চালুই হয়েছে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য।

এখন যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, মোট অংশগ্রহণকারী দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ছয়-সাতটি দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যদি ভারতে প্রবেশাধিকারই না পায়, তারা যদি তাদের সেরা স্কোয়াড পাঠাতে না পারে—তাহলে সেটা কত বড় এক আফসোস?

বাংলাদেশ তো নিরাপত্তাজনিত কারণে আগেই ভারতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে হয়তো সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হতে পারে। বিশ্বকাপ যে নির্দিষ্ট উইন্ডোতে হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়তো আর রাখা যাবে না। কারণ, এটা এক বিশেষ পরিস্থিতি। মানে, প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী দলই সমস্যায় ভুগছে শুধু আয়োজক দেশ ভারত এবং তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কারণে।

বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা। এখানে নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। কিন্তু বাকি দেশগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, তারা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দেরই বেছে নিতে পারবে না।

এ ধরনের বাধ্যবাধকতা কেন আসবে? কেন দলগুলো তাদের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে যেতে পারবে না?

এতগুলো ভিন্ন ভিন্ন দেশ কেন এত বড় একটি আপস করবে- এটা কি খুব সাধারণ বিষয়?

এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই আইসিসিকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমরা যাব কি যাব না, কোন শর্তে যাব—আইসিসি কিছুই পরিষ্কার করে বলছে না, কোনো আপডেটও দিচ্ছে না।

এসব কারণে পুরো বিশ্বকাপটাই ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইসিসি যদি কোনো বিতর্ক ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায়, তাহলে কি পুরো বিশ্বকাপটা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়?

তাহলে সব দল হয়তো সমানভাবে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে তাদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারবে। বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরের এই অপ্রয়োজনীয় নাটক আর ভালো লাগছে না!

আহমেদ বিন পারভেজ, ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক।

দ্বিতীয় স্তরের দল আলবাসেতের কাছে হেরে বিদায় রিয়ালের

পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিসিবির

যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের

নাজমুলের মন্তব্য বিসিবিও সমর্থন করে না

টিভিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচসহ আরও যত খেলা

বিসিবি পরিচালক নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে আলটিমেটাম

ভারতকে ধসিয়ে সমতায় ফিরল নিউজিল্যান্ড

আট গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে বাংলাদেশ-ভারতের ড্র

বাংলাদেশে এসে সম্মানিত বোধ করছেন গিলবার্তো

আলো ছড়ালেন রিশাদ