আইসিসি-বিসিবি বৈঠক হয়েছে, সমঝোতা হয়নি
আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। গতকাল অনলাইন বৈঠকে ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ হওয়ায় বিসিবিকে ভারতে খেলতে অনুরোধ জানায় আইসিসি। তবে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানানো বিসিবি আইসিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি। দুই পক্ষের আলোচনার পরও গতকালের বৈঠক থেকে আসেনি কোনো সুরাহা। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
গতকাল আইসিসির সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকে বিসিবির পক্ষে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ সরানোর ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করল বিসিবি। এই বৈঠকে আসেনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত। ফলে আবারও বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ।
আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে আইসিসিকে দুই দফায় চিঠি দেয় বিসিবি। প্রথম দফায় নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে। দ্বিতীয় চিঠিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিবি। দুই দফায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো বিসিবির সঙ্গে গতকালকেই প্রথম বৈঠকে বসে আইসিসি। সেখানেও ভারতের বাইরে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের দাবি তোলে। তবে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ হওয়ায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় আইসিসি। তবে এই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিবি।
এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গত সোমবার সাংবাদিকদের জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দলের দেওয়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের তিনটি নিরাপত্তা শঙ্কা আছে। সেই শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দল কোনোভাবেই ভারতে খেলতে যাবে না। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলেন তিনি। এছাড়া বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, ভারতের মাটিতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ দল। পাশাপাশি গত শনিবার সিলেটে বিসিবি সভাপতি সরাসরি ভারতে খেলতে না যাওয়ার কথা না বললেও তার কথায় ইঙ্গিত ছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ।
সরকার ও বিসিবি কর্তাদের অবস্থানের কারণে বিসিবি ভারতের মাটিতে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার বিষয়ে অনড় রয়েছে। এখন অপেক্ষা আইসিসির ইতিবাচকতা দেখানোর। গতকালের সভায় আইসিসির সেই ইতিবাচকতাটা ছিল বলে জানান বিসিবির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বিসিবি কার্যালয় থেকে আইসিসির সঙ্গে অনলাইন বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। ভারতে আমরা যাব না। আইসিসি কঠোর হয়নি, বাংলাদেশ ইতিবাচক স্থানে। আলোচনার পথ খোলা আছে।’
গতকাল সিদ্ধান্তহীনভাবে শেষ হওয়া বৈঠক ফের কবে হবে—এটা এখনো জানা যায়নি। তবে বিসিবি সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সময় কম আইসিসিও জানে। অতি দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।’ আরেক সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এই ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাননি। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ-ভারত ইস্যুতে এখন কথা বলা নিষেধ আছে।’ গতকাল আইসিসি-বিসিবি বৈঠকের পর বিসিবির শীর্ষকর্তাদের কথায় খানিকটা আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে আইসিসির সিদ্ধান্ত যাবে বাংলাদেশের পক্ষে।
ভারতের মাটিতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্রিকেট খেলার মতো নিরাপত্তা পরিস্থিতি নেই বলে বাংলাদেশ আগে থেকেই দাবি করেছিল। ভারত নিরাপত্তা দেওয়ার অপারগতা জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই দুদেশের ক্রিকেট এবং রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিসিবিও জানিয়ে দেয়, এক মোস্তাফিজকে যদি ভারত নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে পুরো বাংলাদেশ দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে। এই যুক্তিতে বিসিবি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানায়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। সেখানেই আইসিসির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল তাদের একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্টে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলার বিষয় নিয়ে যে শঙ্কার বিষয়টি উল্লেখ করে তাতেই স্পষ্ট হয় এই সফর নিয়ে বাংলাদেশ যে আশঙ্কা করছিল তা অমূলক কিছু নয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সোমবার সেই বিষয়টি উল্লেখ করে সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ দল বা সমর্থক কারোর জন্য নিরাপদ নয়। তিনি আরেকবার জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে তবে সেটা ভারতের মাটিতে নয়, শ্রীলঙ্কায়।
আইসিসির সঙ্গে গতকালের ভার্চুয়াল বৈঠকে নিজেদের সেই দৃঢ় ইচ্ছেটা ফের পুনর্ব্যক্ত করেছে বিসিবি।