ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লিগ কাউন্টিতে মূল দলের পাশাপাশি রাখা হয় আরেকটি দল। দ্বিতীয় দলে সাধারণত তরুণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অফফর্ম ও ইনজুরি থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের খেলানো হয়। তাতে পাইপলাইনের পাশাপাশি বেশিসংখ্যক ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পায়। ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। এছাড়া দর্শকদের জন্য নতুন ব্যবস্থার কথাও জানান। স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে শেড বসানোর কথা জানান। ২৭ হাজার স্কয়ার ফিট শেড বসানোর কথা জানান তামিম। তাছাড়া এই শেডের ওপর সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার পরিকল্পনাও করেছে বিসিবি। আজ সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
কাউন্টি ক্রিকেটের অনুকরণে বিভাগীয় দলগুলোর দ্বিতীয় একাদশ তৈরি করার ঘোষণা দেন তামিম। তিনি জানান, আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সময় দ্বিতীয় একাদশ তৈরি করা হবে। এই দ্বিতীয় একাদশে তরুণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অফফর্মে থাকা ও ইনজুরি থেকে ফেরত আসা ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ হবে বলেও জানান। এছাড়া দ্বিতীয় একাদশের জন্য প্রিমিয়ার লিগের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘এখন থেকে এই এনসিএল যখন শুরু হবে চট্টগ্রাম দলের দুটি একাদশ থাকবে। প্রথম একাদশ ও দ্বিতীয় একাদশ। ঢাকার দুটি দল থাকবেÑপ্রথম একাদশ ও দ্বিতীয় একাদশ। এভাবে করে প্রতিটি দলের প্রথম একাদশ ও দ্বিতীয় একাদশ থাকবে।’
দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচগুলো তিনদিনের হবে জানিয়ে তামিম বলেন এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে আরো ১৫০-২০০ ক্রিকেটারের খেলার সুযোগ হবে। এছাড়া মূল দলের কোনো ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়লে খেলার বাইরে থাকা কাউকে দলে নিতে হবে না বলেও মনে করেন তামিম। তার মতে, দ্বিতীয় একাদশ পদ্ধতি চালু হলে, মূল দলের বাইরেও বেশকিছু ক্রিকেটার খেলার মধ্যে থাকবে। তাতে এনসিএলকে আর ‘পিকনিক’ টুর্নামেন্ট বলা হবে না বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।
তার কথায়, ‘প্রথম একাদশের কেউ যদি স্ট্রাগল করে দুই-তিনটা ম্যাচ। তাকে একদম পুরোপুরি দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তখন একটা তার কাছেও একটা সুযোগ থাকবে দ্বিতীয় একাদশে এসে ম্যাচগুলো খেলে, দুয়েকটা ম্যাচ ভালো করে, আবার একটা সুযোগ নেওয়ার।’
এছাড়া এনসিএলের নতুন এই পদ্ধতির উন্নতির পাশাপাশি দর্শকদের কথা মাথায় রেখেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের কথা মাথায় রেখে পুরো স্টেডিয়ামে শেড বসানোর পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমাদের স্টেডিয়ামে বিশেষ করে যেখানে স্ক্রিন, স্কোরবোর্ড আছে এখানে কোনো শেড নেই। এখানে টিকিটের দাম থাকে সবচেয়ে কম এখানেই দর্শক আসে সবচেয়ে বেশি। আর এই গরমে ওরা প্রচণ্ড পরিমাণ কষ্ট পায় রোদের জন্য। সবাই রাজি হয়েছি আমরা একটা ক্যানোপি সেটআপ করে দেব প্রায় ২৭ হাজার স্কয়ার ফিটের মতো। পুরো জিনিসটা শেডের আন্ডারে এসে যাবে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে এই জিনিসটা আপনারা খুবই দ্রুত এটা দেখতে পারবেন।’
এছাড়া এই শেডের ওপরে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসানো হবে বলেও জানান তামিম ইকবাল। তার কথায়, ‘প্রতি মাসে একটা বড় অঙ্কের টাকা আমাদের বিদ্যুৎ বিল হিসেবে। আমরা চেষ্টা করছি, এটা নিয়ে রেকি করেছি। এখনো একদম শুরুর পর্যায়ে আছে। আমরা পুরো স্টেডিয়ামের প্রতিটি ছাদে আমরা সোলার সিস্টেম করে দেব। এটা পরিবেশের জন্য ভালো, এনার্জি সেভ করবে। আমাদের একটু হিসাব করে দেখতে হবে, এই বিনিয়োগ ও বিনিয়োগের রিটার্ন কী। এটা যদি সবকিছু মিলে যায়; আমাদের মাননীয় মন্ত্রী আমিনুল ভাই (আমিনুল হক) বলেছেন সোলার সিস্টেম হলে পরিবেশের জন্য ভালো হবে।’
পরিবেশের কথা চিন্তা করে এবার নতুন এ উদ্যোগটাই নিতে চাইছেন তামিম ইকবাল। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নিয়ে বিসিবিতে আসা তামিমের পক্ষে এখনই সব উদ্যোগ সম্পন্ন করা সম্ভব না। তাই তার আশা, নির্বাচনে জিতে যারা আসবেন, তারা যেন এই উদ্যোগগুলো সম্পন্ন করে।