হোম > খেলা > ক্রিকেট

নাটকীয় অপেক্ষায় সিলেটের শেষদিন

সিরিজ ২-০ নাকি বিশ্বরেকর্ড!

এম. এম. কায়সার, সিলেট থেকে

শেষপর্যন্ত পঞ্চম দিনে গড়াল সিলেট টেস্ট। শেষদিনের আগে দু’দলের জন্য হিসাবটা এখন এমন। জিততে হলে বাংলাদেশের চাই বাকি ৩ উইকেট। তাহলেই সিরিজে পাকিস্তান ২-০-তে ধবলধোলাই। আর পাকিস্তান আজ আরো ১২১ রান করলেই সিরিজ শেষ হবে ১-১-এর সমতায়। এবং সেই সঙ্গে বিশ্বরেকর্ড! কারণ এখন পর্যন্ত টেস্টে এত বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড কারো নেই। পাকিস্তান এখন সেই রেকর্ড গড়া থেকে মাত্র ১২১ রান দূরে দাঁড়িয়ে।

-কোনটা সহজ কাজ শেষদিনে? ৩ উইকেট তুলে নেওয়া, নাকি সারাদিনে ১২১ রান করা? চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট বললেন, ‘আমরা জয়ের অপেক্ষায় আছি।’ খানিকবাদে সেই কক্ষে একই চেয়ারে বসে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক বলে গেলেন, ‘জিতবো, অবশ্যই আমরা জিতবো। দরকার আর মাত্র ১২১ রান। রিজওয়ান ব্যাটিংয়ে আছে। সাজিদ প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা সত্যিকার অর্থেই আশাবাদী।’

দুদলই আশার ঘুড়ি বেশ উঁচুতে উড়াচ্ছে শেষদিনে এসে। অথচ চতুর্থ দিনের সকালে যখন খেলা শুরু হয় তখন ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনার নাটাই ছিল বাংলাদেশের হাতেই। পাকিস্তান তাদের ন্যুব্জ ব্যাটিং নিয়ে শেষ ইনিংসে রেকর্ড ৪৩৭ রান পার করবে- এমন আশার বাণী কেউ শোনালে তার দিকে সবার বিস্মিত চোখ যেত! কিন্তু সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং এখন পর্যন্ত এই সিরিজে তাদের সেরা ৭ উইকেট হারালেও পুরো দিন পাকিস্তান যে কায়দায় এবং কৌশল নিয়ে ব্যাটিং করেছে, সেটাই তাদের শেষদিনে আশায় রেখেছে।

প্রথম সেশনে পাকিস্তান দুই ওপেনারকে হারালেও স্কোরবোর্ডে ১০১ রানের জমা তুলে নেয়। তাদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাটে রান। সিরিজে প্রথমবারের মতো তাকে ‘ব্যাটসম্যান’ মনে হয়েছে এই ইনিংসে। অভিজ্ঞ বাবর আজমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণের মিশেলে পাকিস্তানের স্কোরকে সামনে বাড়ান মাসুদ। ৫৫ বলে ৪১ রান নিয়ে দিনের প্রথম সেশন শেষ করেন তিনি। সঙ্গে থাকা বাবর আজমের ব্যাটেও এ সময় আসে ২৫ বলে ২৪ রান। বল ও রানের এই হিসাবেই পরিষ্কার- শুধু উইকেট নিরাপদ নয়, স্কোরবোর্ডে রান তুলতেও মরিয়া ছিল পাকিস্তান। জয়ের টার্গেট অনেক দূরের। কিন্তু সেই চেষ্টায় তারা ঠিকই নামে। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে শান মাসুদ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। প্রথম ইনিংসে রান পাওয়া বাবর আজম এই দফায়ও আত্মবিশ্বাসী হয়েই সামনে বাড়ছিলেন। ৪৭ রানে তাকে থামিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। লেগ সাইডে পড়া বলে গ্লান্স করার চেষ্টা করেছিলেন বাবর। বল ব্যাটের কানায় লাগে। অনবদ্য কায়দায় লিটন সেই ফ্লিক গ্লাভসে রাখেন। দুর্দান্ত ক্যাচ! ১১৫ বলে ৯২ রানের মাসুদ-বাবরের জুটি ভাঙে। সাউদ শাকিল প্রথম ইনিংসের মতো শেষ ইনিংসেও ব্যর্থ। এই সেশনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান শান মাসুদকে হারিয়ে। শর্ট লেগে ব্যাট-প্যাড ক্যাচটি ধরেন মাহমুদুল হাসান জয়। সকালে খেলা শুরুর আগে কোচিং সেশনে এমন ক্যাচ ধরার যে অনুশীলন করেছিলেন তিনি, তারই ফল পেলেন হাতেনাতে যেন!

শুরুর দুই সেশনে পাকিস্তান সবমিলিয়ে ৫ উইকেট হারালেও স্কোরবোর্ডে তাদের রানচাকা দ্রুত সামনে বাড়ে মূলত বাংলাদেশের এলোমেলো এবং ক্লান্তিকর বোলিংয়ের কারণে। সকালের সেশন থেকে এই ক্লান্তি সবচেয়ে বেশি যেন ভর করেছিল তাসকিন আহমেদের ঘাড়ে। দুই বা তিন ওভারের স্পেল করেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন এই পেসার। সারাদিনের ৮৪ ওভারের মধ্যে তাসকিন মাত্র ৯ ওভার বোলিং করে সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন এদিন। কোনো সাফল্য ছাড়া ৪১ রান ব্যয়।

দিনের শেষ সেশনে পাকিস্তান যে দক্ষতার সঙ্গে ব্যাটিংয়ে সামনে বাড়ছিল তাতে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য এই সময়টা বড় দুঃখ নিয়েই শেষ হবে। কিন্তু দিনের শেষভাগে নতুন বল হাতে নিয়েই খেলার মোড় ফের ঘুরিয়ে দিলেন তাইজুল ইসলাম। ১০২ বলে ৭১ রান করা সালমান আগাকে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে বোল্ড করে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিলেন শেষ বিকেলে। রিজওয়ান-সালমানের ২২৪ বলে ১৩৪ রানে শেষ হওয়া এই জুটিই এখন পর্যন্ত সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখেছে। সালমান আগার বিদায়ের খানিক বাদে সেই স্পেলেই তাইজুলের আরেকটি সাফল্য। এবার শিকার হাসান আলী। স্লিপে ক্যাচটা নিলেন শান্ত। ততক্ষণে পাকিস্তানের স্কোর অবশ্য তিনশ ছাড়িয়ে গেছে।

চতুর্থ দিন পাকিস্তানের তিন হাফসেঞ্চুরির মধ্যে সেরা ব্যাটিংয়ের কৃতিত্ব পাচ্ছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। আজ পঞ্চম এবং শেষদিনে এই ম্যাচ জয়ের হিসাব-নিকাশও মূলত নির্ভর করছে তার ব্যাটেই।

রিজওয়ান আউট মানেই সিরিজ ২-০। রিজওয়ানের থাকা মানে পাকিস্তানের চোখে বিশ্বরেকর্ডের স্বপ্ন। দারুণ নাটকীয়তা নিয়ে অপেক্ষা করছে সিলেট টেস্টের শেষদিনের সকাল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২৭৮ ও ৩৯০/১০ (জয় ৫২, লিটন ৬৯, মুশফিক ১৩৭, তাইজুল ২২, খুররাম সাজ্জাদ ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)।

পাকিস্তান : ২৩২ ও ৩১৬/৭ (৮৬ ওভারে, শান মাসুদ ৭১, বাবর আজম ৪৭, সালমান আগা ৭১, রিজওয়ান ৭৫*, তাইজুল ৪/১১৩, নাহিদ রানা ২/৫৮)।

টিভিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টসহ ফেডারেশন কাপের ফাইনাল

শন টেইটের বিশ্বাস, সিলেট টেস্ট বাংলাদেশই জিতবে

এবার মেয়েদের জন্য হলো অনার্স বোর্ড

জয়ের পথে বাংলাদেশ, পাকিস্তান তাকিয়ে আকাশের দিকে

শেষদিনে পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান, বাংলাদেশের ৩ উইকেট

মুশফিক দ্য বেস্ট!

জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান তাকিয়ে আকাশের দিকে

উইকেট এখনো ব্যাটিংস্বর্গ, ডিসিপ্লিন বোলিংয়েই ভরসা তাইজুলের

৪৩৭ রানের লক্ষ্যেও জয়ের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

বর্ষসেরার তালিকায় হামজা, ঋতুপর্ণা ও আমিরুল