শুরুতে সেঞ্চুরি হাঁকান বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিম। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে জাদুকরী তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন সালমান আগাও। তবে পাকিস্তানের এ তারকা ব্যাটসম্যানের শতক ম্লান হয়ে গেছে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদের সেঞ্চুরির কাছে। সালমানের ব্যাটিং ঝলকে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জয়ের ছন্দটা ধরে রাখতে পারেনি পাকিস্তান। শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজরা।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ২৮ রান। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ৪৯তম ওভারে ১৪ রান নিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি পাকিস্তানের জয়ের আশাই তৈরি করে ফেলেন। এর উপর ১৪ রানের মধ্যে ১২ রানই এসেছিল আবার দুই ছক্কা থেকে। ফলে পাকিস্তানি সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছিল। তবে রিশাদ হোসেনের করা রোমাঞ্চকর ওই ওভারের প্রথম দুই বলে কোন রানই নিতে পারেননি শাহিন। তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে ব্যবধান কমান খানিকটা। তাতে শেষ ৩ বলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২ রান। সেটাও খুব সম্ভব ছিল পাকিস্তানের জন্য। কিন্তু চতুর্থ বলে ডট করার পর পঞ্চম বলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান রিশাদ। তাতে ওয়াইড পরিণত হয় ডটে। ফলে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা সেখানেই মিলিয়ে যায়
২৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল দূর্বিষহ! ১৭ রানে হারিয়ে বসে তিন উইকেট। টপ অর্ডারের ওই ব্যর্থতায় মনে হয়েছিল হয়তো ম্যাচটাই হেরে বসেছে পাকিস্তান। তবে ‘আনপ্রেডিক্টঅ্যাবল’ পাকিস্তান তো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সেটাই করেছেন সালমান আগা। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে অভিষিক্ত সাদ মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন ৭৯ রান। মূলত এই জুটিই বদলে দেয় ম্যাচে পাকিস্তানের গতিপথ। এর আগে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ আব্দুল সামাদ ও ঘাজি ঘোরি যোগ করেন ৫০ রান। এ দুই জুটির কারণে মূলত ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে ম্যাচের মুহূর্ত।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে নেওয়ার নায়ক এক প্রান্ত আগলে রাখা সালমান আগা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা সালমান আগার ব্যাটে আসে ৯৮ বলে ১০৬ রান। তার ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৪ ছক্কা।
সালমান আগার বিদায়ের পর মনে হয়েছিল পাকিস্তানের জয় পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। তবে মাঝখানে ৮ম উইকেট জুটিতে সালমানকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদি সেই আশা বাঁচিয়ে রাখেন শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ বলে আউট হওয়া শাহিন ৩৭ বলে করেন ৩৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে চার উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ।
তার আগে পাকিস্তানের সামনে ২৯১ রানে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ আর আফিফ হোসেন ৮ বলে ৫ রানে অপরাজিত থেকে যান।
৯৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কার মারে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তানজিদ হাসান তামিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩১তম ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এর আগে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৪ রান।
দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ তামিমের সঙ্গে ৫৩ রানের জুুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৪ বলে ৩ চারের মারে ২৭ রান করে তিনি হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৯০/৫, ৫০ ওভার (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, রউফ ৩/৫২)।
পাকিস্তান: ২৭৯/১০, ৫০ ওভার (সালমান ১০৬, সাদ ৩৮, তাসকিন ৪/৪৯)।
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তানজিদ তামিম।
সিরিজ সেরা: তানজিদ তামিম ও নাহিদ রানা।
সিরিজ ফল: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ জয়ী বাংলাদেশ।