মিরপুর টেস্ট
প্রথমে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিজের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার সেঞ্চুরি দেখা মুমিনুল হকও একই পথে এগোচ্ছিলেন। তবে ভাগ্য সহায় হলো না। দিনের শেষভাগে ৯১ রানে এসে থামতে হয় তাকে। তাতে অবশ্য দলীয় হিসেবে কোনো প্রভাব পড়েনি। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রান। ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম (৪৮) ও লিটন দাস (৮)।
শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পেস আক্রমণের বিপক্ষে শুরুটা ছিল সতর্ক। শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারেই ফ্লিক করে চার মেরে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান। তবে শুরু থেকেই ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করছিলেন শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস।
পঞ্চম ওভারে আফ্রিদির বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান মাহমুদুল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সপ্তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৮ রান করে। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন আফ্রিদি।
এরপর বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন হাসান আলী। ১১তম ওভারের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। ৩০ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন এই ওপেনার। মাত্র ২৫ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপদে বাংলাদেশ।
সেই কঠিন মুহূর্তে হাল ধরেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ধীরে ধীরে ইনিংস গড়তে শুরু করেন দুজন। শুরুতে দেখে-শুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তারা। পাকিস্তানের পেস ও স্পিন—দুই আক্রমণই ধৈর্যের সঙ্গে সামলান এই দুই ব্যাটার। প্রথম সেশনের শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান। তৃতীয় উইকেটে তখনই ৭০ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন মুমিনুল ও নাজমুল। এই জুটিই পরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয় সেশনে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন দুজন। নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেছেন অসাধারণ কিছু শট। বিশেষ করে হাসান আলীর বাউন্সার পুল করে ফিফটি পূর্ণ করার দৃশ্য ছিল চোখজুড়ানো। ৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অন্যদিকে মুমিনুলও নিজের স্বভাবসুলভ ধৈর্যের পরিচয় দেন। নোমান আলীর বলে দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি তুলে নেন তিনি। এই ইনিংসসহ টেস্টে টানা চার ইনিংসে ফিফটির দেখা পেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
একসময় তৃতীয় উইকেট জুটি শতরান ছাড়িয়ে যায়। নাজমুল ও মুমিনুল মিলে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে চাপমুক্ত হয় বাংলাদেশ। চা বিরতির আগমুহূর্তে টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন নাজমুল। ১২৯ বলে শতকে পৌঁছানোর পথে মারেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। পুরো ইনিংসে ছিল দুর্দান্ত শট নির্বাচন, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে তার আগ্রাসী ব্যাটিং আলাদা নজর কেড়েছে।
তবে সেঞ্চুরির পরের বলেই নাটকীয়ভাবে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। পাকিস্তান রিভিউ নিয়ে সফল হয়। ১৩০ বলে ১০১ রান করে ফেরেন নাজমুল। তার বিদায়ে ভাঙে মুমিনুলের সঙ্গে ২৫৭ বলে গড়া ১৭০ রানের দুর্দান্ত জুটি।
নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। এরপর মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। চা বিরতির পর দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। দিনের শেষভাগে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন মুমিনুল। তবে ৯১ রানে এসে থামতে হয় তাকে। বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলীর নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। এরপর সাতটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেললেও আর শতকের দেখা পাননি।
তবুও দিনের বড় প্রাপ্তি হয়ে আছে মুমিনুল-নাজমুলের জুটি। শুরুতে চাপে পড়া বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল এই দুই ব্যাটারেরই। প্রথম দিনের শেষে তাই কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও হাসিটাই বড় হয়ে থাকল বাংলাদেশের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে):
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪ (নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১; আফ্রিদি ১/৬৭, আব্বাস ১/৫১)