২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রূপকথার জন্ম দেওয়া মরক্কো এবারও তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার ‘আটলাস লায়নরা’। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে মরক্কোর জয়ের নায়ক জোড়া গোল করা মিডফিল্ডার আজ্জেদিন উনাহি।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজের মরক্কো। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচের ৫০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন আজ্জেদিন উনাহি। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন এই তারকা। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।
হিউস্টনে চলছে মরক্কো–কানাডা ম্যাচ। শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচটিতে শুরু থেকেই মরক্কোকে চাপে রেখেছে সহস্বাগতিক কানাডা। ১০ম মিনিটে বাঁ পা বাড়িয়ে অসাধারণ এক সেভ করে মরক্কোকে বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ১৫ মিনিট শেষেও কেনো দল গোল পায়নি।
খেলার পরিসংখ্যান বলছে, বল দখলে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে ছিল (৫৩ শতাংশ)। তবে আক্রমণ ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে কানাডাও খুব একটা পিছিয়ে ছিল না। পুরো ম্যাচে ১০টি শট নিয়েছিল কানাডা, যার ৩টি ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের অভাব এবং মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে জালের দেখা পায়নি উত্তর আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে মরক্কো ছিল অত্যন্ত ক্লিনিক্যাল; তাদের নেওয়া মাত্র ৫টি শটের ৪টিই ছিল লক্ষ্যে, যার ৩টিই গোলে রূপান্তরিত হয়।
ম্যাচের ফলাফল ৩–০ দেখালেও খেলার মাঠের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক কানাডার জন্য এই বিদায় বড়ই হতাশার। ম্যাচের বেশ কিছু অংশে দাপট দেখিয়েও সুযোগ হাতছাড়ার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে তাদের। ৩–০ ব্যবধানে হারার মতো ফুটবল তারা খেলেনি, কিন্তু ফুটবলে গোল না করতে পারলে যে বিদায় নিতে হয়—কানাডাকে এ ম্যাচে সেই নির্মম সত্যেরই মুখোমুখি হতে হলো।
কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলার ইতিহাস গড়া মরক্কো এবার আরও পরিপক্ক। হাকিমি-দিয়াজ-উনাহিদের নিয়ে গড়া এই দলটির লক্ষ্য এবার আরও উঁচুতে। হিউস্টনের এই দাপুটে জয়ের পর তারা এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী প্রতিপক্ষের দিকে। শেষ আটে বা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে ম্যাচের বিজয়ী দলের বিরুদ্ধে। মরক্কোর এই উড়ন্ত ফর্ম টুর্নামেন্টের বাকি ফেভারিটদের জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি বড় সতর্কবার্তা।