হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

ইউরোপের বাইরে ইউরোপীয় গর্জন

৩২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে নয়া ইতিহাস

স্পোর্টস রিপোর্টার

একটা সময় ফুটবল বিশ্বকাপে একটি অলিখিত নিয়মই যেন তৈরি হয়ে গিয়েছিল—ইউরোপের বাইরে গেলেই খেই হারিয়ে ফেলে ইউরোপের দলগুলো। তবে সময় বদলেছে, স্পেন ও জার্মানি আগেই ভেঙেছে সেই পুরনো ভুল। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে ইউরোপের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে এসে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে তারা। চলতি বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের রেকর্ড ছয়টি দল। ফুটবল ইতিহাস বলছে, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের পর ইউরোপের বাইরে এটিই তাদের সেরা সাফল্য।


কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ষোলোর প্রতিটি ম্যাচই ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথম দিনেই লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েকে বিদায় করে দেয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। পরদিন বড় চমক দেখায় নরওয়ে; পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা টিকিট কাটে শেষ আটের। একই দিনে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে ইংল্যান্ড।

পরের ম্যাচগুলোতেও বজায় ছিল ইউরোপের দাপট। পর্তুগাল ও স্পেনের ‘অল ইউরোপিয়ান’ হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ হাসি হাসে স্পেন। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে দেয় বেলজিয়াম। আর শেষ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ আটের কোটা পূরণ করেছে সুইজারল্যান্ড। ফলে ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড—ইউরোপের এই ছয় পরাশক্তি এখন সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি।


পুরো বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, শেষ আট পর্যন্ত ইউরোপের সেরা সাফল্য এসেছিল ১৯৩৪ সালে। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের শীর্ষ আটটি দলের সবকটিই ছিল ইউরোপের। এরপর ১৯৫৮ (সুইডেন) এবং ১৯৯৪ (যুক্তরাষ্ট্র) বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭টি করে দল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল।

১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে ১৩টি দল অংশ নিয়ে ৭টি দলই শেষ আটে উঠেছিল। মজার ব্যাপার হলো, সেবার ইউরোপের বাইরে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা একমাত্র দল ব্রাজিলই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

তবে আধুনিক ফুটবলে লাতিন আমেরিকার সঙ্গে আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দলগুলোও নিয়মিত নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। এবার যেমন ইউরোপের এই প্রবল জয়জয়কারের মাঝেও মহাদেশের বাইরে থেকে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। বিশেষ করে মরক্কো ফুটবল বিশ্বে এক নতুন রূপকথা লিখে চলেছে। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়ল তারা।

ইউরোপের ছয় দলের একক আধিপত্যের মুখে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারে, নাকি ইউরোপের কোনো দলই শেষ হাসি হাসবে—তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

বিগত কয়েক আসরে ইউরোপিয়ান দলগুলোর পরিসংখ্যান

২০০২ (কোরিয়া-জাপান): শেষ আটে ইউরোপের দল ছিল ৪টি।

২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা): ইউরোপের দল নেমে এসেছিল মাত্র ৩টিতে (যদিও সেবার স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়)। এটিই ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বাজে ফল।

২০১৪ (ব্রাজিল): কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে ৪টি দল।

২০২২ (কাতার): ইউরোপের প্রতিনিধি ছিল ৫টি দল।

যে নিয়মে মিসরের গোল বাতিল ও আর্জেন্টিনারটি বহাল

মেসিতে মুগ্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

মিসর ম্যাচে মেসি ও আলবিসেলেস্তেদের যত রেকর্ড

তিন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পক্ষেই রায়

‘এক্স’ সংকেত দেখিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিলেন মিসরের কোচ? রেফারিং বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

কী ঘটেনি এই ম্যাচে? ফুটবল থ্রিলার

সবাই দেখেছে কী হয়েছে: সালাহ

ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি ব্রাজিল, কেন?

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কবে কোন ম্যাচ?

রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ মিসরের