হোম > খেলা > ফুটবল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের এক অবিশ্বাস্য গোলযাত্রা

শতবর্ষের হাতছানি ও এনজোর ‘৩০০০’

স্পোর্টস রিপোর্টার

সৃষ্টিকর্তা বোধহয় চিত্রনাট্যটি এভাবেই লিখে রেখেছিলেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, চলছে ইনজুরি টাইম। ম্যাচের বয়স তখন দ্বিতীয় মিনিট। ডান প্রান্ত ধরে চিলির গতিতে আক্রমণে উঠলেন আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্তিনেজ। ডি-বক্সে একটু চোখ বুলিয়ে নিলেন, চাইলেন সুযোগ। এরপর নিখুঁত মাপে বাতাসে ভাসিয়ে দিলেন এক ক্রস। আর সেখান থেকেই বাজপাখির মতো উড়ে এসে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ালেন এনজো ফার্নান্দেজ।

গ্যালারিতে তখন আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকার। উল্লাসে ফেটে পড়ল গোটা স্টেডিয়াম। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও যারা ৩-২ ব্যবধানে এমন অবিশ্বাস্য লিড নিতে পারে, তাদের আনন্দ তো বাঁধভাঙা হবেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি শেষ হতেই জানা গেল এক রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর এই ম্যাচে এনজোর করা শেষ মুহূর্তের গোলটি শুধু আর্জেন্টিনাকে জেতায়নি, বরং ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে যুক্ত করেছে এক সোনালী অধ্যায়। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩ হাজারতম গোল। ২৩তম আসরের দীর্ঘ পথচলার মাঝে ২০২৬ সালে এসে পূর্ণ হলো এই অনন্য মাইলফলক।

এনজো ফার্নান্দেজের এই অবিস্মরণীয় কীর্তির দিনে চলুন ফিরে তাকানো যাক বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতা থেকে, যেখানে লুকিয়ে আছে আগের সব মাইলফলক গোলের গল্প-

প্রথম গোল (১৯৩০): বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম গোলটির মালিক ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ১৯ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন তিনি। ম্যাচটি ফ্রান্স জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে।

১০০তম গোল (১৯৩৪): দ্বিতীয় আসরে এসে সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় গোলের। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১ ব্যবধানে জেতার ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার সঙ্গে টুর্নামেন্টের ১০০তম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেলো শিয়াভিও।

২০০তম গোল (১৯৩৮): কিউবাকে ৮-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের ২০০তম গোলটি উপহার দেন সুইডেনের স্ট্রাইকার হ্যারি অ্যান্ডারসন।

৩০০তম গোল (১৯৫০): ব্রাজিলের মাটিতে স্পেনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি দর্শনীয় গোল করে ৩০০ গোলের কোটা পূরণ করেন সেলেসাও তারকা চিকো।

৪০০তম গোল (১৯৫৪): ১৯৫৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তুরস্কের জাল কাঁপিয়ে ৪০০তম গোলের মাইলফলকে নিজের নাম খোদাই করেন জার্মানির মাক্স মোরলোক।

৫০০তম গোল (১৯৭৮): প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের ৩-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার ম্যাচে সান্ত্বনা হিসেবে বিশ্বকাপের ৫০০তম গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেন স্কটিশ তারকা ববি কলিন্স।

১০০০তম গোল (১৯৭৮): একই বছর পেনাল্টি থেকে আসে বিশ্বকাপের ১ হাজারতম গোল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২-৩ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের রব রেন্সেনব্রিক এই ঐতিহাসিক গোলটি করেন।

১৫০০তম গোল (১৯৯৪): ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে বিশ্বকাপের ১৫০০তম গোলটি করেন আর্জেন্টিনার ক্লাউদিও ক্যানিজিয়া।

২০০০তম গোল (২০০৬): জার্মানি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে ইতিহাসের ২০০০তম গোলটি করার গৌরব অর্জন করেন সুইডেনের মার্কাস আলবাক।

২৫০০তম গোল (২০১৮): রাশিয়া বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন টুর্নামেন্টের ২৫০০তম গোলটি স্কোরবোর্ডে তোলেন তিউনিসিয়ার ফাখরেদ্দিন বেন ইউসেফ।

৩০০০তম গোল (২০২৬): এবং সর্বশেষ, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অন্তিম মুহূর্তে হেড করে ইতিহাসের ৩০০০তম গোলের মুকুট মাথায় পরলেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ।

১৯৩০ সালে ফ্রান্সের লরেন্তের পায়ে শুরু হওয়া সেই ফুটবল উৎসব আজ ২০২৬ সালে এসে আর্জেন্টিনার এনজোর হেডে ৩ হাজারের চূড়া স্পর্শ করল। ফুটবল ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা সত্যি অনবদ্য!

ইউরোপের বাইরে ইউরোপীয় গর্জন

যে নিয়মে মিসরের গোল বাতিল ও আর্জেন্টিনারটি বহাল

মেসিতে মুগ্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

মিসর ম্যাচে মেসি ও আলবিসেলেস্তেদের যত রেকর্ড

তিন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পক্ষেই রায়

‘এক্স’ সংকেত দেখিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিলেন মিসরের কোচ? রেফারিং বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

কী ঘটেনি এই ম্যাচে? ফুটবল থ্রিলার

সবাই দেখেছে কী হয়েছে: সালাহ

ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি ব্রাজিল, কেন?

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কবে কোন ম্যাচ?