সমালোচনার মুখে অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুললেন ফিফা প্রধান
পর্দা উঠেছে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে ২৩তম আসরের মাঠের লড়াই শুরু হতেই মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক ও অমীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফুটবল বিশ্ব। টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের ক্ষোভ তো ছিলই, তার ওপর যোগ হয়েছে প্রতিযোগী দল ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা এবং আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে চরম কড়াকড়ি। এসব বিতর্কিত বিষয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। আগামী শনিবার সোফি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এছাড়া ইরানের ফুটবল সমর্থকদের টিকিট বাতিল এবং সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশের খেলোয়াড় ও স্টাফদের বিমানবন্দরে অসম্মানজনকভাবে তল্লাশি করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
নিরাপত্তার নামে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর অবস্থান ও বিতর্কিত পদক্ষেপের বিপরীতে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিছুটা অসহায় সুরেই তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করি না। আমরা চেষ্টা করি, আলোচনা করি, কথা বলি। তবে আমাদের বুঝতে হবে, আমরা বিশ্বের রাজা নই যে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্দেশ জারি করব।’
বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী এখন খুবই আগ্রাসী। এখানে নিরাপত্তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা সম্মান করতে হয়। তবে আমরা পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছি।’
নানা কূটনৈতিক জটিলতার মধ্যেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে ফিফার বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমেরিকায় ইরানকে খেলতে আনা একটি বিশাল সফলতা। আমি জানি না ফিফা ছাড়া আর কে এটি করতে পারত। আমরা চাঁদে বাস করি না, পৃথিবীতে বাস করি; তাই বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হয়।’