তিন দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ইউরোপের মঞ্চে শিরোপার স্বাদ পেল অ্যাস্টন ভিলা। উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে উনাই এমেরির দল। ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস পার্কে ভিলার এই ঐতিহাসিক জয়ে আবেগে ভেসেছেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজা প্রিন্স উইলিয়ামও।
ফাইনালে বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণ, গতি আর কার্যকারিতায় ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। প্রথমার্ধেই ইয়োরি টিলেমান্স ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার গোলে এগিয়ে যায় ভিলা। দ্বিতীয়ার্ধে মর্গান রজার্স আরেক গোল যোগ করলে জয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায় ফ্রেইবুর্গের।
এই শিরোপা শুধু অ্যাস্টন ভিলার জন্য নয়, কোচ উনাই এমেরির জন্যও বিশেষ এক অর্জন। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ছয়বার উঠে পাঁচবারই ট্রফি জিতলেন স্প্যানিশ এই কোচ। এর আগে সেভিয়ার হয়ে তিনবার ও ভিয়ারিয়ালের হয়ে একবার শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। কেবল আর্সেনালের দায়িত্বে থাকাকালে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ফাইনাল হারতে হয়েছিল তাকে।
গত সপ্তাহেই প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করেছিল ভিলা। এবার ইউরোপা লিগ জিতে মৌসুমটাকে আরও স্মরণীয় করে তুলল দলটি।
গ্যালারিতে বসে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম। ভিলার প্রতিটি গোলেই তাকে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন,
‘অবিশ্বাস্য এক রাত! খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ক্লাবের সঙ্গে জড়িত সবাইকে অভিনন্দন।’
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ভিলার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গলা মিলিয়ে গান গাইছেন, দু’হাত তুলে নাচছেন এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছেন প্রিন্স উইলিয়াম। প্রিয় ক্লাবের এমন ঐতিহাসিক সাফল্য যেন তাকে ফিরিয়ে নিয়েছে শৈশবের স্বপ্নে।
অ্যাস্টন ভিলার সর্বশেষ বড় শিরোপা এসেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ইংলিশ লিগ কাপে। আর ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাদের শেষ সাফল্য ছিল ১৯৮১-৮২ মৌসুমের ইউরোপিয়ান কাপ। দীর্ঘ ৩০ বছরের ট্রফিখরা কাটিয়ে অবশেষে নতুন করে গৌরবের মুকুট পরল ইংলিশ ক্লাবটি।