রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকে বিক্রি করার দাবিতে অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন ৩ কোটিরও বেশি সমর্থক। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হতাশাজনক মৌসুমের মধ্যে ফরাসি এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে বলেই দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক থাকলেও দলীয় সাফল্য না আসায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এমবাপে। পিএসজি থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে যোগ দেওয়ার পর দুই মৌসুমে ৮৫ গোল করেছেন তিনি। তবে এই সময়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ।
এদিকে এমবাপে ক্লাব ছাড়ার পরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে নেয় পিএসজি এবং এবারও ফাইনালে ওঠার পথে রয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। এতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এমবাপের উপস্থিতি আদৌ দলের জন্য কতটা কার্যকর।
সম্প্রতি ইনজুরি থেকে পুনর্বাসনের সময় বান্ধবী এস্টার এক্সপোসিতোর সঙ্গে ইতালির সার্ডিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যান এমবাপে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার এই সফর মেনে নিতে পারেননি রিয়াল সমর্থকদের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনার কাছে পিছিয়ে পড়ার সময় বিষয়টি আরও বেশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
যদিও এমবাপের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, রিয়ালের মেডিক্যাল টিমের পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিশ্রামে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবু সমর্থকদের ক্ষোভ কমেনি।
সমালোচনার আরেকটি বড় কারণ তার খেলার ধরন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এমবাপে বল ছাড়া খেলায় খুব বেশি অবদান রাখেন না। রক্ষণে সহায়তা বা প্রেসিংয়ের বদলে তিনি আক্রমণভাগে থেকে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষা করেন। এ কারণেই সাবেক পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে তাকে ছাড়ার পর খুব বেশি আক্ষেপ করেননি বলেও মত ফুটবল বিশ্লেষকদের।
এছাড়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে এমবাপের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দুজনই বাম প্রান্তে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং রক্ষণে খুব বেশি অবদান রাখেন না। ফলে রিয়ালের আক্রমণভাগে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এরই মধ্যে কোচ পরিবর্তনের গুঞ্জনও জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য কোচ হিসেবে উঠে আসছে জোসে মরিনহোর নাম। পর্তুগিজ এই কোচ দায়িত্ব নিলে এমবাপেকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও অদূর ভবিষ্যতে এমবাপেকে বিক্রি করার সম্ভাবনা খুব কম। তার সঙ্গে এখনও তিন বছরের চুক্তি রয়েছে এবং তাকে কিনতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এত বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি ও বেতন বহন করার সামর্থ্য বর্তমানে খুব কম ক্লাবেরই আছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে এমবাপেকে ঘিরে এই বিতর্ক ফরাসি দলের জন্যও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্যতম বড় ভরসা তিনিই। তবে আপাতত বার্সেলোনার বিপক্ষে আসন্ন এল ক্লাসিকোতেই নজর সবার। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সমালোচনার চাপ কিছুটা কমাতে পারবেন এমবাপে।