মার্কিন বাহিনী পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি কথিত মাদক পাচারকারী জাহাজের ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুজন নিহত এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে শুক্রবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) পরের দিন একটি পোস্টে বৃহস্পতিবারের এই হামলার কথা জানায় এবং বলে, ‘তারা একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জাহাজটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচারের পথ ধরে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচারে জড়িত ছিল।
সাউথকম এই হামলায় মৃত্যুর খবর জানালেও সংখ্যা জানায়নি। তারা শুধু বলেছে, তিনজন জীবিত ব্যক্তির সন্ধান করতে কোস্ট গার্ডকে সাহায্য করার কথা জানানো হয়। পরে কোস্ট গার্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সাউথকমের কাছ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে তিনজন ব্যক্তি বিপদে পড়ার খবর পেয়েছে তারা।’
মুখপাত্র বলেন, ‘কোস্ট গার্ডের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি থেকে দুজন মৃত ও একজন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, সব ব্যক্তিকে কোস্টারিকার কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সেপ্টেম্বরের শুরুতে মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করে এবং সর্বশেষ এই হামলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৬০-এ পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, তারা লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় তথাকথিত ‘নারকো-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু তারা যে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, সেগুলো মাদক পাচারে জড়িত কি না, এর কোনো প্রমাণ তারা দেয়নি।
ফলে এই অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এই হামলাগুলো সম্ভবত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল। কারণ এতে দৃশ্যত এমন বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নয়।
ওয়াশিংটন ক্যারিবিয়ানে একটি বিশাল বাহিনী মোতায়েন করেছে, যেখানে তাদের বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে এবং বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযান চালিয়েছে।
সূত্র : আরব নিউজ।