সৌদি আরবজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ১১ হাজার ৫৮৭টি ঘটনা রেকর্ড করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় নয় হাজার ৫৮৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর মধ্যে আবাসন আইনসংক্রান্ত ছয় হাজার ৪৩টি, সীমান্ত নিরাপত্তা আইনসংক্রান্ত তিন হাজার ১৯১টি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দুই হাজার ৩৫৩টি ঘটনা রয়েছে।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে এক হাজার ৬৭৮ জনকে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এছাড়া অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়েছে আরও ১৮ জনকে।
অন্যদিকে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৪১ হাজার ১০৬ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৮ হাজার ৮১৩ জন এবং নারী দুই হাজার ২৯৩ জন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ হাজার ১৯৩ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আরও নয় হাজার ১৩৯ জনকে নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নয় হাজার ৫৮৯ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, রাজ্যের অভ্যন্তরে পরিবহন করা কিংবা আশ্রয়, সহযোগিতা বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
মন্ত্রণালয় এসব অপরাধকে গ্রেপ্তারযোগ্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
আরএ