বিশ্ব ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বৈশ্বিক কৌশল বিশ্লেষক পারাগ খান্না। তার মতে, ইতিহাসবিদেরা কয়েক দশক পর এই যুদ্ধকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দেবেন—সেই অপেক্ষায় থাকার কোনো কারণ নেই।
গুলির লড়াই হয়তো বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রয়েছে, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যব্যবস্থা ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। দাভোসের নিয়মিত বক্তা ও আলোচিত লেখক পারাগ খান্না এ মন্তব্য করেছেন।
চলতি সপ্তাহে আবুধাবিতে সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মনে করি আমরা ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রয়েছি। ২০৬৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, যখন ইতিহাসবিদেরা বলবেন, হ্যাঁ, ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল।’
কেন এই সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা যায়, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, বিশ্বের সব বড় শক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়েছে এবং যুদ্ধের বিভিন্ন রণাঙ্গন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
তার মতে, এই সংযোগ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। অস্ত্র সরবরাহ, সেনা মোতায়েন, তেল-গ্যাস ও বিভিন্ন পণ্যের প্রবাহ, স্বর্ণ এবং মজুত ব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর বিষয়টিও এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জন্য বর্তমান সংকট আগের আঞ্চলিক সংকটগুলোর চেয়ে আলাদা বলেও মন্তব্য করেন খান্না। তার ভাষায়, গত পাঁচ দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও ইউএই ছিল ‘ঝড়ের কেন্দ্রের চোখ’। লেবাননের গৃহযুদ্ধ থেকে শুরু করে আরব বসন্ত—প্রতিটি আঞ্চলিক অস্থিরতা দেশটির উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
তবে এবারই প্রথম দেশটি সরাসরি হামলা ও লক্ষ্যবস্তুর শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এটিকেই এবারের পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় পার্থক্য হিসেবে দেখছেন খান্না।
তবে একে ইউএইর জন্য কোনো মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা বলে মনে করেন না তিনি। তার প্রত্যাশা, আগের সংকটগুলোর মতো এবারও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিজেদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা প্রমাণ করবে দেশটি।