চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
এই দুটি ইস্যুতে চীন দীর্ঘদিন ধরেই সরব। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করার পর থেকে বেইজিং এ পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করে আসছে। তবে একই সঙ্গে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ রাখার কারণে ইরানের প্রতিও ক্রমশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে চীন।
জানা গেছে, বৈঠকে বেইজিং ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দেবে—যদি তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখে, তাহলে চীন ভবিষ্যতে কী ধরনের সমর্থন অব্যাহত রাখবে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে, প্রণালী বন্ধ রাখার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা হলে, জাতিসংঘে চীনের সমর্থন পাওয়া তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা চাইছেন—চীন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবে, তখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা ছাড় দেবে কি না, যা তেহরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, চীনও ইরানের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে তেহরান কোনো প্রতিশোধমূলক বা আকস্মিক পদক্ষেপ নেবে না।
সব মিলিয়ে, বেইজিংয়ের এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসআর