উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো দখলের পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের চ্যানেল–১২ জানিয়েছে—দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তঘেঁষা প্রথম সারির গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ইসরাইল, যাতে সেখান থেকে রকেট ও ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে এমন যেকোনো এলাকা দখলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যেখান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই দখল ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বহাল থাকতে পারে।
তবে কোন নির্দিষ্ট গ্রামগুলো দখল করা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এটি মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্রটি আরও দাবি করে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র বা ভেঙে দেওয়া ছাড়া লেবানন সরকারের সামনে কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা জোরদার হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে চালানো হামলায় অন্তত ৯৬৮ জন নিহত এবং ২,৪৩২ জন আহত হয়েছেন।
বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিহত হন। এর জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে। ইরান জানিয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা।
এসআর