ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ
ইরানের শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ঐতিহাসিক জানাজা উপলক্ষে এক বার্তা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ।
বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘এ দেশের শহীদদের, বিশেষ করে শহীদ উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীরা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। চূড়ান্ত প্রতিশোধের পদক্ষেপ পবিত্র কুদস (জেরুজালেম) মুক্তির মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে বাগের গালিবাফের বার্তার বিবরণ প্রকাশ করেছে।
বাগের গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নেতাকে হারানোর বেদনা এবং দেশের রাজধানীতে তার পবিত্র, আহত দেহের শেষ উপস্থিতির দিনটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আপনাদের নতুন জাগরণের মাধ্যমে এটি মহাকাব্য ও সচেতনতায় রূপ নিয়েছে। এটি ইসলামি ইরান এবং সমগ্র ইসলামি বিশ্বের নিশ্চিত বিজয়ের পথকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।’
বার্তায় বলা হয়, যে জাতি ৪৭ বছর ধরে বিপ্লবের অগ্রসেনা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে, তারা গত চার মাসে প্রতি রাতে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ ধ্বনি দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা শহীদ ইমামের হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিশোধের দাবি জানিয়েছে।
স্পিকার বলেন, আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত। ইরানের ভূমিতে আগ্রাসনকারীরা এবং দেশের শহীদদের হত্যাকারীরা তাদের কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পাবে। অত্যাচারী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধের পদক্ষেপ পবিত্র কুদস মুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরো বলেন, এই জাগ্রত জাতি তাদের নেতাকে বিদায় জানিয়েছে। গত চার মাসের মতোই তারা প্রজ্ঞাবান ধর্মীয় নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হুসেইনি খামেনির প্রতি আনুগত্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ তারা ইমাম ও শহীদদের আলোকিত পথ থেকে সামান্যতম পিছপা হয়নি। আজ বিশ্ব বুঝেছে যে ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্থায়ী ও চিরঞ্জীব। জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো অচলাবস্থা বা পরাজয় নেই।
বাগের গালিবাফ বলেন, এই জাতি ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শিক্ষার অনুসারী। শহীদ বিপ্লবী নেতার ৩৭ বছরের নেতৃত্বের সময় তারা শুধু জিহাদ ও সংগ্রামের চেতনা ধরে রাখেনি, বরং বিশ্বের আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সুসংগঠিতভাবে দাঁড়িয়েছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মর্যাদা উপলব্ধি করতে হবে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো প্রচেষ্টায় কমতি রাখা যাবে না। তা হোক ইরানকে রক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে, কিংবা কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে। অথবা জনগণের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সেবার ক্ষেত্রেই হোক। শহীদ নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের নেতার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে জনগণের জন্য নিরলস ও কার্যকর কাজ করার বিষয়টি কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এএম