হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৬ বাংলাদেশি হতাহত

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৪ বাংলাদেশি।

হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। আহত ব্যক্তিদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় জানা গেছে। আহত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। বাকি ১৩ জন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তার ইকামা ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ।

বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ বাংলাদেশি

রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কয়েকজন আহত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তারা।

বাদশা আবদুল্লাহ হাসপাতাল

এই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবা ইসহাক এবং মা কমলা বেগম। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন তিনি।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল

এখানে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।

সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মো. মোখলেসার রহমান এবং মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মো. মহিব উল্লাহ এবং মা রোকেয়া বেগম। তারা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন।

সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবা মো. আবদুল হাই এবং মা রহিমা বেগম। আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তার বাবা মো. আবুল ফজল এবং মা তাজকেরা বেগম। তারা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল

এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আবদুল্লাহ। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। তার বাবা মো. মোখতার আহমেদ এবং মা ফজিলাতুন নেসা। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, তাখাসসুসি শাখা

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক।

আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তার বাবা মো. মজিবুল হক এবং মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজন মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তাঁদের ইকামা ছিল।

কিংডম হাসপাতাল

এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. রফিক মিয়া। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তার ইকামা ছিল।

বাদশা ফাহাদ মেডিকেল সিটি

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতাল

এখানে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তাদের ইকামা ছিল।

এস্টার সনদ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল

এখানে নাজমা আক্তার নামে এক বাংলাদেশির চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য রয়েছে। তবে তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, আলসাহাফা শাখা

এই হাসপাতালে উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।

ফ্লাইট বন্ধ, রিয়াদে আটকে পড়েন ৫০০ বাংলাদেশি

হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ছিলেন।

আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ কাজে দূতাবাসকে সহযোগিতা করে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো।

বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে আটকে পড়া প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

ওমরাহ পালনের জন্য ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ওই ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাহরাইন যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে বাহরাইনে যেতে সহায়তা করা হয়।

শনিবারের হামলায় নিহত দুইজনের বিষয় ও আহত চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। আর শনিবার নিহত হয়েছেন দুজন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ১৪ জন নিহত হলেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে টার্মিনাল-৩-এর ওপর। এ সময় সেখানে ইউএস-বাংলা, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের বাংলাদেশি যাত্রীরা ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন ম্যারিয়ট হোটেলে, ২৫ জন র‍্যাডিসন হোটেলে এবং ৪০ জন প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন।

এএম

সৌদি-ইয়েমেন সংলাপে সহায়তার করার প্রস্তাব দিল ইরান

সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা

রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, নিহত ১, আহত ১১

যুবরাজের ভুল হিসাবে ইয়েমেন যুদ্ধে ফের জড়াল সৌদি আরব

গাজায় যা ঘটেছে ও ঘটছে, তাতে অনেকেই জড়িত: আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট

সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করবেন না, সতর্কবার্তা হুথির

গাজা যুদ্ধ বদলে দিয়েছে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ

সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

ইসরাইলের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে জর্ডানে

ফিলিস্তিনে নির্বাচন ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর