ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোট নতুন সরকার গঠনের জন্য চারটি শর্ত ঘোষণা করেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গাজায় সংগঠনটির সামরিক ও শাসনক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি এ শর্ত দিয়েছেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোট বলেন, তার ঘোষিত নীতিমালায় সম্মত যেকোনো নির্বাচিত আইনপ্রণেতার সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। এ নীতিমালার ভিত্তিতেই একটি বৃহত্তর ‘জায়নবাদী সরকার’ গঠন করতে চান তিনি।
আইজেনকোটের ঘোষিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসরাইলকে ‘ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক অথবা বেসামরিক জাতীয় সেবা চালু করা।
তিনি বলেন, ‘যারা এসব নীতি মেনে চলবেন, তাদের সবার জন্য দরজা খোলা।’ একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকট এড়াতে ‘অসাধারণ প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
আইজেনকোট দ্রুত সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে চালানো হামলা এবং তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নেতানিয়াহু প্রশাসনকে ‘৭ অক্টোবরের সরকার’ বলে অভিহিত করেন।
তার দাবি, ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বিদায়ী সরকার এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অনীহার বিরোধিতা করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিদায়ী সরকারের তুলনায় পাঁচ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আইজেনকোট আরও জানান, ক্ষমতায় গেলে ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন, সব ইসরাইলির জন্য বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা চালু এবং বিদায়ী সরকারের পাস করা বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার আইন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরএ