মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি অধিবেশন শুরু করেছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। লন্ডনভিত্তিক জাতিসংঘের এই সংস্থার দুই দিনের বৈঠকে আটকে পড়া হাজারো জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
বুধবার শুরু হওয়া এই অধিবেশনে আইএমওর ৪০ সদস্যের কাউন্সিল বৃহস্পতিবার কয়েকটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দিতে পারে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নিতে একটি ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডোর’ গঠনের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য। তবে এসব প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা বাধ্যতামূলক হবে না।
এই বৈঠকে আইএমওর ১৭৬ সদস্য রাষ্ট্র, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং নৌপরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারবেন।
ইরানের পাল্টা হামলার ফলে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বেড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আইএমও জানিয়েছে, প্রণালীর পশ্চিমে প্রায় ৩,২০০ জাহাজে ২০ হাজারের মতো নাবিক আটকা পড়েছেন। সংঘাত শুরুর পর অন্তত ২১টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌযান ও সমুদ্র মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত আটজন নাবিক নিহত এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামুদ্রিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ এনে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণারও নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এই পরিস্থিতির জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দায়ী করে বলেছে, বর্তমান সংকট সেই ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের’ সরাসরি ফল।
এছাড়া জাপান, পানামা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আইএমওকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
নৌপরিবহন খাতের সংগঠনগুলোও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছে। পাশাপাশি নাবিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, ক্রু পরিবর্তন, জাহাজ থেকে নামার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এসআর