আবু সুফিয়ান

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় সামিটকে সাবমেরিন ক্যাবলের লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সেই লাইসেন্স বাতিলে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তিন প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ মালিক দেশ থেকে পলাতক। তারা বিদেশে বসে অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে ব্যান্ডউইডথ সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অপর নাম ‘রাতের ভোট’। ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির কারণে নির্বাচনটি এ পরিচিতি পায়। এই কর্মযজ্ঞ আনজাম দেওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। এজন্য ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আট হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। এই অর্থ জোগাড় করা হয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

রাতের ভোটের অন্যতম কারিগর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি তিনি এক বছর আগেই নেওয়া শুরু করেন। ওই বছরের জানুয়ারিতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিরোধীদের দমনের অঙ্গীকার করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কপোতাক্ষ’ নামে একটি কক্ষ আছে। এটি সাধারণ অফিসরুম হলেও ২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্যবহার করা হয় অস্বাভাবিক কাজে। সেখানে বসে একদল পুলিশ কর্মকর্তা তৈরি করে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত ‘ভোট ডাকাতির’ নীলনকশা।

অতি ক্ষুদ্র কণার বিজ্ঞান বা ন্যানো প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও শিল্পের যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ন্যানো প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পটি সরকারি নির্দেশে অসমাপ্ত রেখেই বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ জুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত

রাজধানীর বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুর ও কলাবাগান এলাকার আট তরুণকে হঠাৎ রাতের আঁধারে তুলে নিয়েছিল র্যাব। ঘটনার শিকার পাঠাওয়ের তখনকার সফটওয়্যার প্রকৌশলী আরাফাত জানান, বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি মোট চার কোটি ৯০ লাখ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। সরকার বলছে, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত ও নিরাপদ টিকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টিকার ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতা ডেটা ও লং টার্ম কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশ-বিদেশে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি মোট চার কোটি ৯০ লাখ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। সরকার বলছে, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত ও নিরাপদ টিকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টিকার ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতা ডেটা ও লং টার্ম কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশ-বিদেশে

বাংলাদেশের শিপিং খাতে এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে, যা ব্যবসার আড়ালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনীতি এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেড। সংস্থাটি ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি জেডআইএম ইন্টিগ্রেটেড শিপিং সার্ভিসেস লিমি

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন (৩৪)। ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি তার ব্লাড ক্যানসার (অ্যাকিউট প্রমাইলোসাইটিক লিউকেমিয়া) ধরা পড়ে। প্রথমে চিকিৎসা শুরু হয় মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লির প্রতি নতজানু নীতি ও কূটনৈতিক নমনীয়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ভারতীয় বলয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। প্রকল্পটি রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়ন হলেও ভারত কৌশলগত ও প্রযুক্তিগতভাবে সুবিধা এবং স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত দেড় দশক ধরে চালানো তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানগুলো মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস, জাতীয় নির্বাচন অথবা রাজনৈতিক উত্তেজনার আগমুহূর্তে হঠাৎ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান, ‘বড় হামলা নস্যাৎ করা হয়েছে’Ñএমন খবর প্রচার করা হতো।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৭ সালে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ২০২০ সালের মধ্যে সব সদস্য রাষ্ট্রকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড মোবাইল সেবায় ব্যবহারযোগ্য করতে হবে। ভারতও ২০২১ সালে এ ব্যান্ড নিলামে তুলে ৪জি-৫জি সেবা বিস্তার করে।

কাজ থেকে ফেরার পথে গুম হয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র আমিনুল ইসলাম। গুম অবস্থায় নির্যাতনের ফলে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রায় দুবছর আগে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও সংস্থাটির ছয় কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জাতিসংঘ।

ছিলেন একজন সরকারি চিকিৎসক। ৩৮তম বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ছিলেন নিষ্ঠা আর পেশাদারত্ব নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ করেই এক রাতে অদৃশ্য হয়ে গেলেন সরকারি কোয়ার্টার থেকে। কোনো অভিযোগ নেই, তবুও তুলে নিয়ে গেল সাদা পোশাকধারীরা।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন ফর প্রোটেকশন অব অল পারসনস অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়, তাতে ৩০ আগস্টকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

স্বীকারোক্তি আদায় শুধু পুলিশের কাজ ছিল না; অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও পুলিশের সাজানো বক্তব্যকে বৈধতা দিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা গুমকারীদের মতোই ছিল। নারী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরাসরি গুমের অভিযোগ দিয়েছেন অন্তত তিন তরুণ। ‘গুম তদন্ত কমিশন’-এ তারা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং তাদের ওপর চালানো নিপীড়নের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎস হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ‘অ্যান্টার্কটিকা চৌধুরী’ নামে পরিচয় দেয়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাদের হুমকি দেয়া হয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎস হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ‘অ্যান্টার্কটিকা চৌধুরী’ নামে পরিচয় দেয়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাদের হুমকি দেয়া হয়।

২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন পুলিশের সহিংসতার পর জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই গণঅভ্যুত্থান রক্তের বিনিময়ে দমন করে শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা দেশের তরুণ-যুবকদের মৌলিক দাবিকে চরম অবজ্ঞা করে।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত বছরের ৩ আগস্ট বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে জড়ো হয়। একই দিনে অন্তত ৩৩টি জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা।

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট বিকালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের ডাকা ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার এলাকা

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে থাকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় ছাত্রনেতাকে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট (৩২ জুলাই) ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ ছয়দিন, কেউ পাঁচদিন আবার কেউ চারদিন ডিবি হেফাজতে ছিলেন

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে সেদিন সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই রাতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ জুলাই দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় একযোগে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরকারি দমন-পীড়ন এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবাধিকারের প্রতি সরকারের আক্রমণ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ছয় সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে রাখা হয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে

২৮ জুলাই, ২০২৪। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারের সহিংসতা, গণহত্যা এবং মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দাবি জোরদার হতে থাকে। সরকার ও পুলিশের দাবি, সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে

গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা এখন নতুন চাপের মুখে রয়েছেন। তাদের অচেনা ফোন নম্বর থেকে ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তারা যেন গুমের ঘটনার বিষয়ে মুখ না খোলেন এবং কোনো অভিযোগ যেন না করেন-সে বিষয়েও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ তিন সমন্বয়ক—নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারকে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তুলে নেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

সেদিনের গণগ্রেপ্তারও ছিল ভয়াবহ। স্কুলের ইউনিফর্ম পরে আসা কিশোরদেরও টেনে তোলা হয় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে। পরিচয় না জেনে মামলা ছাড়াই তুলে নেওয়া হয় শত শত মানুষকে। ঢাকা মেডিকেলসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব হাসপাতালে ছিল গুলিবিদ্ধ মানুষের ভিড় আর আর্তনাদ

কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হওয়া আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান চালায়। ন্যায্য এ আন্দোলন দমনে সরকার দেশজুড়ে চালায় হত্যাযজ্ঞ, গণগ্রেপ্তার করা হয় আন্দোলনকারীদের, চলে গুমের মহোৎসব এবং গুলি করে অন্ধ করে দেওয়া হয় বহু তরুণকে। রিয়া গোপের মতো অনেক শিশুর

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক কঠোর বার্তা দেন

২২ জুলাই, ২০২৪। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ও বেদনাবিধুর এক দিন। টানা তিনদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে জনগণকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল শেখ হাসিনার সরকার। এর মাঝেই গণহত্যা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

কোটা সংস্কার আন্দোলন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে এক রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল। চারদিনের ব্যবধানে পুলিশের গুলি, হামলা ও সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত ১৪৮ জন। শুধু ২১ জুলাইয়েই সরকারি হিসাবে নিহত হন ২৬ জন

দেশজুড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শুরু করা আন্দোলন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সহিংস আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে দেশের সব জেলায় কারফিউ ঘোষণা করে সরকার। মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সর্বাত্মক অবরোধের দিনটি নজিরবিহীন সহিংসতায় পরিণত হয়। সারা দেশে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়

ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। ঢাকাসহ ৪৭টি জেলায় রাস্তাঘাট ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা

পুলিশের গুলিতে ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ সারা দেশে ছয়জন নিহত হওয়ার পর ১৭ জুলাই দুপুর ২টায় ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিহত শিক্ষার্থীদের গায়েবানা জানাজা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্ররা রাজু চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন এবং কফিন মিছিলে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের এক ভয়াবহ দিন পার করেছিল দেশ। ১৫ জুলাইয়ের এ ঘটনাবলিতে শিক্ষার্থীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ক্যাম্পাস আর চিকিৎসা নিয়েছিলেন অর্ধশত শিক্ষার্থী

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদে সেদিন ফুঁসে উঠছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত বছরের ১৪ জুলাই মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন তারা

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বছরের ১৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১২ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। দিনটি শুক্রবার হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। একই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশি বাধা, জলকামান, সাঁজোয়া যান মোতায়েন এবং ছাত্রলীগের পাল্টা অবস্থান সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের ডাকা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই দিনভর অচল হয়ে পড়েছিল দেশের রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক। সারা দেশের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল । কমপক্ষে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার

সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এই অবরোধ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রধান সড়ক ও রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা

৮ জুলাই তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে রাজধানীর ১১টি মোড় এবং এক স্থানে রেলপথ অবরোধ করেন। আগের দিন তারা সাতটি স্থানে কর্মসূচি চালিয়েছিলেন। অবরোধের কারণে রাজধানীর বড় অংশে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ৬ জুলাই রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। আগের দিন শাহবাগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছিলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর পাশাপাশি সব জেলা শহরে সড়ক অবরোধ, মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই সারা দেশে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা সেদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে তাদের দাবি জানাতে থাকেন।