ভোলার চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানাধীন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে শশীভূষণ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাশ্ববর্তী বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার তার নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, সেলিম খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তবে তার সঙ্গে কয়েকজনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং অতীতে এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জানান, অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ওই সময় এক ঘটনায় অভিযোগকারী পক্ষ নিজেরাই আহত হয়ে মিথ্যা মারামারির অভিযোগ তোলে। পরে স্থানীয় সালিশে বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে মীমাংসা হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের আরো অভিযোগ, এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের ফলের বাগানে অভিযোগকারী পক্ষের লোকজন ফল নষ্ট করত এবং এ বিষয়ে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
সেলিম খন্দকারের ছেলে এবং যুব শক্তি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ খন্দকার মঞ্জু বলেন, “বাগানের ফল নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে আমার বৃদ্ধ বাবা এক শিশুকে শাসন করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাদের কাছে টাকা দাবি করেছিল এবং তা না দেওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।