কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় দুধের ব্যস্ততম হাট। মাত্র দেড় ঘণ্টার এই বেচাকেনায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দুধ বিক্রি হয়, আর মাস শেষে সেই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটিতে।
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাগমারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীতে ও হক মেডিক্যালের সামনে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বসে এই দুধের হাট। স্থানীয় খামারি ও বেপারীদের মিলনমেলায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার লিটার দুধ বেচাকেনা হয়। প্রতি কেজি দুধ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় দৈনিক লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লালমাই উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫২৯টি খামার রয়েছে। এসব খামারের বড় অংশের দুধই আসে বাগমারা বাজারে। তবে বড় কিছু খামারি সরাসরি বিভিন্ন মিষ্টির কারখানায় দুধ সরবরাহ করেন।
বাজার ঘিরে আশপাশের ছিলোনিয়া, হাজাতিয়া, নোয়াপাড়া, কাতালিয়া, মাতাইনকোট, চেঙ্গাহাটা ও সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ আসে। এছাড়া লালমাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি পাশের লাকসাম ও বরুড়া উপজেলা থেকেও দুধ নিয়ে আসেন খামারিরা।
সকালে বাজারে গেলে দেখা যায়, খামারিরা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে দুধ নিয়ে আসছেন। বাজারে পৌঁছাতেই বেপারীরা দুধ কেনার জন্য ভিড় করেন। ভালো মানের দুধ পাওয়ার প্রতিযোগিতাও চোখে পড়ে।
নোয়াপাড়া গ্রামের খামারি ফজলুল হক বলেন, “আমরা খাঁটি দুধ দেই, কিন্তু কিছু বেপারী আমাদের কাছ থেকে কিনে পরে তাতে পানি মেশান।”
অন্যদিকে দুধের বেপারী সঞ্চয় ঘোষ স্বীকার করেন, সংরক্ষণের জন্য অনেক সময় দুধে পানি মেশানো হয়। তার ভাষায়, “৪০ লিটার দুধে প্রায় ৫ লিটার পানি মেশাতে হয়।”
দুধ বেপারী আবদুল জলিল বলেন, প্রতিদিন তিনি ৮০০ থেকে ১ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করি। তার মতে, এখানকার দুধের মান ভালো এবং দাম তুলনামূলক কম।
তালুকদার সুইটস অ্যান্ড বেকারির মালিক আশিক তালুকদার বলেন, প্রায় ৫০-৬০ বছরের পুরনো এই বাজার এখনো তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। প্রতিদিন নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য এখান থেকে দুধ সংগ্রহ করি।
লালমাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আফরোজ জানান, উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার লিটারের বেশি দুধ উৎপাদন হয়, যার বড় অংশই এই বাজার ঘিরে বেচাকেনা হয়।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বিশুদ্ধ দুধ নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুধে ভেজালের অভিযোগ উঠলেও পরীক্ষায় রাসায়নিক নয়, অতিরিক্ত পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।