কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় কর্মরত তিন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় অবৈধ বালু খেকো ও পাহাড় খেকো সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরো অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনসহ সর্বমোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী হামলার শিকার দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি এ কে এম ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া থানায় এ মামলাটি রুজু করেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উওর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার ছড়াখাল ও ফসলী জমিতে সেলো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়ে ওই এলাকার বালু খেকো ও পাহাড় খেকো সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দিনসহ তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনজন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে সাংবাদিক এ কে এম ইকবাল ফারুক ছাড়াও অন্য দুইজন সংবাদকর্মীরা হলেন, দৈনিক কালের কন্ঠ ও দৈনিক আজাদী পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ ও দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক। সন্ত্রাসীরা এ সময় তিন সাংবাদিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এতে সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের ডান হাত ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং পুরো শরীর থেঁতলে যায়। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ ও ইকবাল ফারুককেও কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর বিনা চিকিৎসায় বালু খেকো ও পাহাড় খেকো সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়।
সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে চকরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা। এদিন বিকালে চকরিয়া পৌর সদরের প্রধান সড়কে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে চকরিয়া-পেকুয়ায় কর্মরত শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও নানান শ্রেনী পেশার লোকজন অংশ নেয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, তিনজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার হাতে পেয়েছি। পরবর্তীতে সেটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারের পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।