ফেনীতে অটোরিকশা ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে পড়ে শান্ত কুমার সাহা (১৬) নামে এক চালক নিহত হয়েছে। রোববার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার লালপোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত কুমার ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের হকদি গ্রামের কানু কুমার সাহার ছেলে।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইফতারের আগমুহূর্তে লালপোল মিয়াজি ফিলিং স্টেশনের সামনে একজন যাত্রীর মালামালসহ শান্তকে অটোরিকশা নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে মহাসড়কের পাশে একটি কালভার্টের নিচে ফেলে দেয়।
সেখান থেকে উঠে শান্ত ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করলে তারা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে শান্ত মহাসড়কে পড়ে গেলে চলন্ত একটি গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শান্তর ফুফাতো ভাই বিপুল দাস বলেন, সন্ধ্যার দিকে পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এক পরিচিত অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তর মরদেহ দেখতে পায়। সে যেখান থেকে যাত্রী নিয়েছিল, সেখানকার আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
শান্তর খালাতো বোন নিপা রানী দাস বলেন, ‘ইফতারের আগ মুহূর্তে মিয়াজি ফিলিং স্টেশনের সামনে শান্তর সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি তাকে বাসায় পৌঁছে দিতে বললে সে জানায় তার ভাড়া আছে। তখন তার অটোরিকশায় কয়েকটি বস্তা ছিল। পাশে এক ব্যক্তিকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। আমার ধারণা, ইফতারের সময় নিরিবিলি পরিবেশের সুযোগ বুঝে তারা শান্তকে টার্গেট করে নিয়ে যায় এবং অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।’
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অটোরিকশা ছিনতাই ও চালকের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।