চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরীকে বহনকারী প্রাইভেট কারকে আরেকটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আরোহীদের ক্ষতি হয়নি।
শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাক্কা মসজিদ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফৌজদারহাটে নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেট কারে করে সীতাকুণ্ড সদরের উদ্দেশে রওনা হন আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী। গাড়িটি (চট্টমেট্রো ১২-৬৫৯৫) সোনাইছড়ির পাক্কা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে একই দিকে যাতায়াতকারী অপর একটি প্রাইভেট কার (চট্টমেট্রো গ ১২-৩৫৫৪) বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে তার গাড়ির পেছন ও পাশে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আনোয়ার ছিদ্দিকের গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাম্পার খুলে যায়।
ঘটনার সময় গাড়িতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক এহসান হাবিব হিরোসহ আরও দুজন আরোহী উপস্থিত ছিলেন। আল্লাহর রহমতে কেউ শারীরিকভাবে আহত না হলেও মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাটি স্বাভাবিক মনে হয়নি। বেপরোয়া গতিতে চালানো গাড়িটি যেভাবে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়, তাতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। অনেকের মতে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাও হতে পারে; বরং পরিকল্পিত কোনো অপচেষ্টার অংশ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, আমি জুমার নামাজের পর বাড়ি থেকে বের হয়ে সীতাকুণ্ডে আসছিলাম। আমার গাড়িবহরে নির্বাচনের চিফ এজেন্টসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি হঠাৎ সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আমার গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই নিরাপদ আছি। তবে কেন হঠাৎ করে আমার গাড়ির পেছনে এসে ধাক্কা দেওয়া হলো বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এদিকে ঘটনার পর আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে ‘সন্দেহজনক ও রহস্যজনক’ উল্লেখ করে এটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় বিভিন্ন মহলের মতে, একজন এমপি প্রার্থীর চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সহনশীলতার জন্য অশনিসংকেত। তারা মনে করছেন, যদি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ডবাসী প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গভীর তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনেছি কিন্তু অভিযোগ পাইনি। এরপরও তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করছি। এটি নিচক কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত-সেটি তদন্তে উঠে আসবে।