চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেবের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পতেঙ্গা র্যাব-৭ কার্যালয়ে জানাজার পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এরপর তার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন র্যাবে প্রেষণে থাকা এই বিজিবি কর্মকর্তা।
এদিকে এ ঘটনায় আহত আরো তিনজন এখনো চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। তাদের মধ্যে একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে আছেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানে যায় র্যাবের ১৬ সদস্যের একটি আভিযানিক দল। এ সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে র্যাবের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হঠাৎ আক্রমণে হতবিহবল হয়ে পরে র্যাবের দলটি। এক পর্যয়ে র্যাব-৭-এর উপপরিচালক অবদুল মোতালেব, ল্যান্স নায়েক এনাম, কনস্টেবল রিফাত ও নায়েক আরিফ দলছুট হয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা ওই চারজনকেই ধরে নিয়ে যায়। একটি ঘরের ভেতরে আটকে কয়েক দফায় পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে তাদের।
পরে পুলিশ গিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মধ্যস্ততা করে আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মোতালেব হোসেন ভুঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করে। বাকি তিনজন এখন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক আলাউল হোসেন।
তিনি জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনায় র্যাবের প্রত্যেক সদস্য মর্মাহত। দুপুর ২টাই পতেঙ্গা র্যাব-৭-এর প্রধান কার্যালয়ে নিহত আব্দুল মোতালেবের নামাজে যানাযা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অংশ নেবেন র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। এরপর বিকেলে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নৃশংশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ঘটনার পর গতকাল রাত থেকেই সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার কারণে ছলিমপুরের ভেতরে যাওয়া সম্ভব না হলেও ছিন্নমূল গেটে জঙ্গল ছলিমপুরের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীরা সন্ধ্যার আগেই দুর্গম পাহাড়ে চলে গেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নিয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানান, পাহাড় কেটে বিশাল অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায়। পুরো এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় নগর ও জেলার বিভিন্ন সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় বসবাস করে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ওই এলাকায় বড় ধরনের একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা বেশ কিছুদিন ধরে নেওয়া হচ্ছিল। এই পরিকল্পনা এখন আরো ত্বরান্বিত হবে। যত দ্রুত সম্ভব সবগুলো বাহিনী একত্রিত হয়ে ওই এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।