চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চলতি বর্ষায় নগরবাসীকে আর জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে না। নিচু এলাকার কোথাও কোথাও পানি ওঠলেও দ্রুত পানি সরে যাবে। আগামী ডিসেম্বরের আগেই শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। একইমাসে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন।
তবে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আমরা যদি অসেচতনভাবে বারবার খালে বর্জ্য ফেলি তাহলে কোন সুফলই আসবে না। দিন শেষে আমাদেরকেই ভুগতে হবে। তখন সিডিএ-চসিককে দোষ দিয়ে কোন লাভ হবে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সিডিএ’কে দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল সংস্থায় রূপান্তর ও নান্দনিক , পরিকল্পিত উন্নয়নের শহর করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। কেননা সিডিএতে দীর্ঘদিন স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। অত্যাধুনিক মার্কেট করা হলেও চালু করা হয়নি। বড় বড় মার্কেট থেকে কোন ভাড়া আসছে না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করলেও অনেকে টোল দেয় না। এই তালিকায় সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছে। অতিতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতিও হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সিডিএ’কে জনবান্ধব করতে যুদ্ধ শুরু করেছি। এ যুদ্ধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৩৬ টি খালের মধ্যে ৩০টি খালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ৬টি খালের কাজও ৬৮ শতাংশ শেষ। তিনি বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। তবে এক্সপ্রেসওয়ে চালু থাকায় অনেকে গাড়ি চালিয়েও টোল দেন না। আমাদেরকে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি নিজেও টোল দিয়ে ব্যবহার করেছি। এই প্রকল্পকে লাভজনক করতে যানবাহন চলাচল যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি সবাইকে টোল দিতে হবে।
অপরদিকে নগরের কালুরঘাট থেকে চাক্তাই সংযোগ সড়কের কাজও শেষ দিকে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়কটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কটির কারণে খাতনগঞ্জকে ঘিরে আশেপাশে সৃষ্ট যানজটের অবসান হবে। সেইসাথে এই রুটে সহজে বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য আনা নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এতে সময় বাঁচবে, বাঁচবে অর্থ।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন নগরের প্রবর্তক মোড় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় খালগুলো ঘুরে দেখেন। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক ও শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পিডি সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।