চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলায় অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল রাতে ও সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ সোহেল রানা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী।
থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুর থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এরা হলেন— দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহেল ও মো. ফারুক। এছাড়া রাতের অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সোহেল ও দেলোয়ার সন্ত্রাসী ইয়াছিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে শনিবার সকালে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পাঁচজনকে।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনজনকে এবং রাতে আরো তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরেকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি। গত ২৬ জানুয়ারি নগরীর খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়্যা হত্যা মামলায় মিজান ও মামুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার আগে ১৯ জানুয়ারি আসামি গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়্যা। এ সময় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। সেদিন সন্ত্রাসীরা র্যাব কর্মকর্তাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে পাহাড়ের গহিনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।
গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য নিয়ে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। ওই অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে পুলিশের দুটি ক্যাম্প রয়েছে।