হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ঘুম থেকে খেলার কথা বলে নিয়ে যায় নির্জন গোডাউনে

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশু ধর্ষণ

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাট এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। এ এলাকায় শ্রমজীবী মানুষ বাস করে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে সেখানেই তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন মো. মনির নামে এক যুবক। আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি।

অভিযুক্ত মনিরকে আসামি করে শিশুটির মা বাকলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে তোলা হয়। ধর্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতে তাকে কারাগারে পাঠায়।

জানা গেছে, সেদিন দুপুরে অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল এলাকাটি। ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা বাইরে কাজে গিয়েছিলেন। মা পোশাক কারখানায় আর বাবা অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায়। শিশুটি তখন তার নানির ঘরে ঘুমাচ্ছিল।

পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানায়, অভিযুক্ত মো. মনিরের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি পেশায় ডেকোরেশনের কাজ করেন। বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। মনিরের স্ত্রী ও দুটি ছোট মেয়ে আছে। তবু একই মহল্লার একটি শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে।

ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটির মা প্রতিদিনের মতো কাজে গিয়েছিলেন। বাবা অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন ভোরে। শিশুটি নানির ঘরে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাচ্ছিল। তার নানি তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, শিশুটি বেশিরভাগ সময় নানির সঙ্গেই থাকতে।

পরিবারের ধারণা, মনির আগেই শিশুটিকে লক্ষ করেছিল। প্রতিবেশীরা জানান, মনির প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করত, আশপাশের মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্কও খারাপ ছিল না। এ ‘পরিচিত মানুষের’ কাছেই হার মানে শিশুটির নিরাপত্তা।

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মনির শিশুটিকে খেলার কথা বলে ডেকে নেয়। নানি ভেবেছিলেন শিশুটি বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছে। কিন্তু মনির তাকে নিয়ে যায় পাশের ডেকোরেশনের গোডাউনে, যা দিনের বেলায় সুনসান ও ফাঁকা থাকে।

গোডাউনটি সাধারণত বিয়ের সাজসজ্জার সামগ্রী রাখার জায়গা। দিনের বেলা তালা ছাড়া থাকে। পুলিশ বলছে, নির্জনতা নিশ্চিত করেই মনির সেখানে শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর শিশুটি তীব্র ব্যথায় কাঁদতে থাকে। তখনই নানি গিয়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ে তো ঘুমাচ্ছিল। ওকে রেখে আমরা কাজে ছিলাম। কীভাবে এমন হলো… ভাবলেও গা শিউরে ওঠে।

সাবেকুন্নাহার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, নিজের দুই মেয়ে আছে তার। অন্যের তিন বছরের শিশুর সঙ্গে কীভাবে এমন করতে পারে!

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (দক্ষিণ) উপকমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেছিল। অনেককে বুঝিয়ে আমরা সরিয়ে দিই। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী পুলিশ ও যানবাহনের ওপর হামলা চালায়। মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে ‘শয়তানে পেয়েছিল’ এমন কথাও বলেন তিনি।

রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ৭

ধর্ষণের ঘটনায় কিছু প্রতিবেশী পুলিশের ওপর বিশ্বাস করে সরে গেলেও মুখে মাস্ক পরে কিছু লোক পুলিশের ওপর হামলা করে। হামলা করা হয় সাংবাদিকদের ওপরও। এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এ ঘটনায় পুলিশ এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সংঘর্ষ বৃহস্পতিবার রাত ৩টা পর্যন্ত চলে। সেখান থেকে পুলিশ সাতজনকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় আটক সাতজনসহ অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়।

অভিযুক্ত মো. মনিরকে আসামি করে শিশুটির মা বাকলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

সন্দ্বীপে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সদর দপ্তরে অভিযোগ

সবুজায়ন-সৌন্দর্যবর্ধনে সীতাকুণ্ডে পর্যটনশিল্পের নতুন সম্ভাবনা

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাই

সাইকেল কিনে না দেওয়ায় ছেলের আত্মহত্যা

এবার বায়েজিদে আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

চকরিয়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন

কুমিল্লায় পুলিশ সুপারের জুতা চুরি, ৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার

সাঙ্গু তীরে গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব

নোয়াখালীতে বন্দুক ও কার্তুজসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

প্রতিবন্ধী বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে