কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের আত্মপ্রকাশ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার দুই দিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে একদল কিশোর প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে শক্তি প্রদর্শনমূলক প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। এ সময় তারা দলবদ্ধভাবে মাঠে অবস্থান করে এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্রে অস্ত্র হাতে মহড়ায় অংশ নেওয়া প্রায় সবার চেহারা ও পরিচয় স্পষ্টভাবে বোঝা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, উপজেলার পৌর এলাকার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত হলেও কাউকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
এর আগে, গত বুধবার ভিডিও বার্তায় ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অগ্রীম ঘোষণা দিয়েছিল। যার সবকিছুই প্রকাশিত এবং তাদের পরিচয় ও শনাক্ত করেছে বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছে পুলিশ। তারপরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করায় বিষয়টি সাধারণ জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার পরও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব গ্যাং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তারা আরো বলছেন, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না হওয়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান আমার দেশকে বলেন, আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি । কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে । আমাদের অভিযান চলমান আছে ।
বুড়িচংয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মহড়ার বিষয়ে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেমনভাবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি, তেমনভাবে বুড়িচংয়ের মাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে । যারা অস্ত্র হাতে মিছিল করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।