কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পীরপুর-ভাগলপুর-সরারচর, মথুরাপুর বটতলা মোড় থেকে মোরগ মহল এবং পশু হাসপাতাল মোড় থেকে রাবারকান্দি এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়।
পীরপুর-ভাগলপুর-সরারচর চার কিমি. রাস্তা বিগত চার বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে। জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এ রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেহাল দশার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং গত কয়েক বছরে কয়েকজনের প্রাণহানিও হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের পশ্চিম বসন্তপুর পশু হাসপাতাল মোড় থেকে ডাক বাংলোর রাবারকান্দি হতে সরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে বিশেষ করে বড় বড় খানাখন্দের পাশাপাশি এ রাস্তার দুপাশের ড্রেনেজব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অল্প বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। রাবারকান্দি মসজিদের দুদিকে ওয়াল থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানি হয়। এ দুষিত পানির ওপর দিয়ে এলাকাবাসীর হাঁটতে গিয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা ও পৌর প্রশাসনকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।
সরেজমিন দেখা যায়, মথুরাপুর বটতলা হতে মোরগ মহল পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘসময় ধরে মেরামতের অভাবে পড়ে রয়েছে। রাস্তার বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরার কারণে সিএনজি, অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল হুমকির মুখে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণের ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।
খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। সেই সঙ্গে রয়েছে ধুলা-বালুর উপদ্রব। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার হাজারো সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ ও খানাখন্দে থাকলেও রাস্তাগুলোর সংস্কারে প্রশাসনের নেই কোনো উদ্যোগ।
উপজেলার পৌরশহরসহ বিভিন্ন এলাকা ও ওয়ার্ডে কোথাও দুই কিলোমিটার, কোথাও আড়াই-তিন কিলোমিটার রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয় বাসিন্দা মিজবাহ উদ্দিন, আলী হোসেন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না, এতটাই রাস্তার বেহাল অবস্থা। প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বনি আমিন বলেন, কিছু রাস্তা সংস্কারের অনুমোদন পেয়েছি আমরা। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।