কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত টিনশেড ভবন রয়েছে। ওই ভবনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি শঙ্কা বিরাজ করছে সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে দুটি ভবন রয়েছে। একটি দুইতলা ভবন এবং অন্যটি টিনশেড হাফ বিল্ডিং। ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। চালার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে জমে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেই চলছে পাঠদান। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের সামনেই রয়েছে একটি বড় পুকুর। যা বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। উপজেলার খুবই পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। এতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৪২৬ জন। শিক্ষক আছেন ১১ জন। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রাক-প্রাথমিক দুই শাখায় ৬০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৬৭ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৭৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮৪ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭২ জন। বিদ্যালয়ে ৮টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও টিনশেড কক্ষগুলোতে ঝড়, বৃষ্টি বা তীব্র রোদের সময় ক্লাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাবিয়া ইয়াছমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম। জরাজীর্ণ ও ভাঙা কক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে অন্য বিদ্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল এনে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানান, ‘ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জেডএম