রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে ধরা পড়া দুটি বিশাল আকৃতির কাতল মাছ প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় আকারের এ মাছ দুটি দেখতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পদ্মা-যমুনার মোহনায় মাছ শিকারে যান স্থানীয় জেলে জীবন হালদার ও এরশাদ হালদার।
তারা পৃথকভাবে নিজেদের সহযোগীদের নিয়ে নদীতে জাল ফেলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভোরে তাদের জালে উঠে আসে দুটি বড় কাতল মাছ। এর মধ্যে জীবন হালদারের জালে ধরা পড়ে ২৮ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতল এবং এরশাদ হালদারের জালে ধরা পড়ে ১৮ কেজি ওজনের আরেকটি কাতল মাছ। একসঙ্গে এত বড় দুটি কাতল ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি এলাকায় সৃষ্টি হয় কৌতূহল।
শুক্রবার সকালে মাছ দুটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের রেজাউল মন্ডলের আড়তে নিয়ে আসা হয়। সেখানে মাছ দুটি এক নজর দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বড় মাছ কিছুদিন খুব কমই ধরা পড়ছে, তাই তা দেখতে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি বিক্রি করা হয়। নিলামে অংশ নিয়ে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ দুটি ক্রয় করেন। তিনি ২৮ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের কাতল মাছটি প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ টাকা দরে ৬২ হাজার ৭০০ টাকায় এবং ১৮ কেজি ওজনের অপর মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে ৩২ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে নেন। এতে মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৯৫ হাজার ১০০ টাকা।
মাছ কেনার পরপরই তিনি মুঠোফোনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা লাভে তিনি মাছ দুটি ৯৯ হাজার ৭৫০ টাকায় কুষ্টিয়ার এক প্রবাসীর কাছে বিক্রি করেন। এতে তার মোট লাভ হয় ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, ‘পদ্মার বড় মাছের আলাদা চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা ভালো দাম দিতে আগ্রহী থাকেন। তাই কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে বেশি দামে মাছ কিনলেও শেষ পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হয়।’ তিনি আরও বলেন, বড় মাছ সংগ্রহ করতে পারলে তা দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশ আহরণে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে কাতল, রুই, বোয়াল, বাগাড়সহ বিভিন্ন বড় মাছ ধরা পড়ছে। এটি মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ।’ তিনি আরও জানান, নদীতে স্থায়ী অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে জেলেদের জন্য আশাব্যঞ্জক ফল বয়ে আনবে।
স্থানীয়দের মতে, পদ্মা নদীর এ ধরনের বড় মাছ শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং এলাকার পরিচিতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। মাঝে মাঝে এমন বড় মাছ ধরা পড়ার ঘটনা মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।