ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর কাজী বাড়ির ঘাট নামক জলমহাল এলাকায় আটকা পড়েছে প্রায় ৭ ফুট আকৃতির একটি কুমির। সোমবার ভোর ৬টায় জেলেদের হাজারী বড়শিতে জড়িয়ে কুমিরটি আটকা পড়ে। পরে পাঁচজন জেলে জোর চেষ্টা চালিয়ে মাঝ পদ্মা নদী থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে ডাঙায় আনা হয়। পরবর্তীকালে কুমিরটিকে পদ্মায় অল্প পানিতে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পদ্মা পারে উৎসুক জনতার ভিড় লেগেই আছে।
কুমির আটকের খবর পেয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলে করিম ডিউক ও চরভদ্রাসন থানার এসআই কাজী রিপন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মা পারে অবস্থান করে কুমিরটিকে নিরাপদ হেফাজতে রেখেছেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলা ওই বন কর্মকর্তা জানান, “আটক কুমিরটিকে পদ্মা পারে অল্প পানিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বেঁধে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কুমিরটি নিরাপদ ও সুস্থ্য আছে। খুলনা থেকে বন্যপ্রাণি টিম এলে কুমিরটিকে পানি থেকে তুলে আমরা তাদের হাতে তুলে দেব।
জানা যায়, উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর ওই ঘাটের জলসীমানায় বড় বড় বাঁশ পুঁতে প্রতিদিন জেলেরা হাজারী বড়শিতে মাছ ধরেন। বেশরি ভাগ জেলেরা রাতভর বড়শি ফেলার পর ভোররাতেই বড়শি থেকে মাছ ছাড়িয়ে আনেন। এদের মধ্যে সাগর বেপারী (৪৫) নামক এক জেলে তার বড়শি থেকে মাছ ছাড়াতে গিয়ে দেখেন যে বিশাল এক কুমির বড়শিতে আটকে রয়েছে।
এ সময় তিনি চিৎকার করে অন্য জেলেদের একত্রিত করে পাঁচজন জেলে মিলে বিশেষ কৌশলে কুমরিটির ঘাড়ে মাজায় ও মাথা বেঁধে ফেলেন। পরবর্তীকালে কুমিরটি বড় নৌকার সঙ্গে বেঁধে ঘাটে আনা হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
কুমির আটককারী জেলে সাগর বেপারী বলেন, “কুমিরটি তার হাজারী বড়শিতে আটকের পর তার প্রায় ১৬ হাজার টাকার বড়শি বিনষ্ট করে ফেলেছে। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে পদ্মা নদীতে পাতা সব বড়শি কুমিরের ঝাঁকিতে বিনষ্ট হয়েছে।”