আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা মহিবুল ইসলাম বাধনকে একদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার কুষ্টিয়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা এ আদেশ দেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি বাধন আমার দেশ সম্পাদককে হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ৪৪ নম্বর আসামি।
এ তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সাইমুম হাসান আমার দেশকে বলেন, বুধবার বাধনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। অন্যদিন রিমান্ড শুনানি হবে জানিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। রবিবার ধার্যকৃত দিনে শুনানি শেষে আসামি মহিবুল ইসলাম বাধনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার শহরের হাউজিং এলাকা থেকে আমার দেশ পত্রিকার
সম্পাদককে হত্যাচেষ্টা মামলায় এজাহার ভুক্ত ৪৪ নম্বর আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা বাধনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার বাধন কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বাবুর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত জামিল হোসেন বাচ্চুর ছেলে ইয়াসির আরাফাত তুষারের দায়ের করা একটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়ার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় তাকে দিনভর আদালত ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আদালত চত্বরেই তার (আমার দেশ সম্পাদক) ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনার ছয় বছর পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে গত বছর ১০ অক্টোবর মজলুম সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান ভারতে পলাতক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, ফাসিস্টের সহযোগী সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ ৪৭ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা চেষ্টার অভিযোগ দেন।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া আদালতের দায়িত্বরত কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান তাকে পুলিশি প্রটেকশন দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং যশোর বিমান-বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করার কথা জানান। তার আশ্বাসে আমার দেশ সম্পাদক আদালত এজলাস কক্ষ হতে বের হয়ে দুই সফর সঙ্গীসহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে বসেন। গাড়িতে বসার ২/১ মিনিটের মধ্যেই ১১ হইতে ৪৭ নম্বর আসামিসহ আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি মারাত্মক অস্ত্র, রড, লাঠি-সোটা ও ইট-পাথর দিয়া উক্ত গাড়ির সকল কাচ ভেঙ্গে ফেলে এবং লাঠি ও পাথর দিয়া আমার দেশ সম্পাদককে উপর্যুপরি আঘাত করে। রক্তাক্ত জখম করে।
হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দেয়া এজাহারটি কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। শুরুতে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের ও পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাইমুম হাসানকে।
এমএস