আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার। গ্রামগঞ্জের অলিগলি থেকে শুরু করে হাটবাজার—সবখানেই প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। দীর্ঘদিন পর আসন পুনরুদ্ধারের আশায় মাঠে নেমেছে বিএনপি। তবে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নওগাঁ-৩ আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তা চলে চায় আওয়ামী লীগের দখলে। এবার এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফজলে হুদা বাবুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে জনগণের পাশে আছি। নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত আধুনিকায়ন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার চেষ্টা করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না, টাকা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা হবে। দুই উপজেলায় কারখানা গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। দলীয় নেতাকর্মীরা ধান্দাবাজি, চাঁদাবাজি করতে পারবে না।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকীর বড় ছেলে। ধানের শীষের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনিও কোমর বেঁধে নির্বাচনি মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
কলস মার্কার প্রার্থী পারভেজ বলেন, বহিষ্কার রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। যেহেতু আমি ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচন করছি, তাই বহিষ্কার আসবে—এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে প্রার্থী থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের দাবিতেই আমি নির্বাচন করছি। আমার বাবা এ আসনে তিনবার এমপি হয়েছিলেন, ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। মহাদেবপুরের মানুষ আমাকে নিরাশ করবে না।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট বলেন, আমিও এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে মহাদেবপুরের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনবে ইনশাল্লাহ। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যেখানেই গণসংযোগে যাচ্ছি, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।
দলে চাঁদাবাজি নেই দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কৃষকদের সার-বীজ দেওয়া, জলাবদ্ধতা নিরসন, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও বাসদের প্রার্থী থাকলেও মাইকিং ছাড়া তাদের অন্য কোনো প্রচার নেই বললেই চলে। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে, এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার কোনো এক প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাবেন। এলাকাবাসী ধারণা করছেন, তার নেতাকর্মীরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বচনি মাঠে নামলে হিসাব ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদের ভোট যে প্রার্থী বেশি টানতে পারবেন, তিনিই হবেন এ আসনের সংসদ সদস্য।