বগুড়ার শেরপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫৩০ পিস ইয়াবা ও প্রায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। তবে ঘটনার পর থেকে অপর এক মাদক ব্যবসায়ী পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজারদীঘি মাঠপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন রাজারদীঘী গুচ্ছ-গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা খাতুন (৩৫) এবং তার বোন ওই এলাকার ফারুক হোসেনের স্ত্রী মুর্শিদা বেগম (২৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজারদীঘি মাঠপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদা ও মুর্শিদা সিন্ডিকেট করে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার বিকেলে গোপন খবরের ভিত্তিতে স্থানীয় এলাকাবাসী একজোট হয়ে তাদের ঘেরাও করে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা একই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সাইফুর ইসলামের বাড়িতেও অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রায় ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হলেও গণধোলাইয়ের ভয়ে সাইফুর ইসলাম আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসী আলা-উদ্দিন, সিয়াম ও মোস্তাক বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এরা মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরেছি। আমরা আমাদের এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে চাই। মাদকসহ দুই নারীকে আটকের পর স্থানীয়রা শেরপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ দুই নারী কারবারিকে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এলাকাবাসী মাদকসহ দুই মহিলা মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে আমাদের হাতে সোপর্দ করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও গাঁজা থানা হেফাজতে রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে পলাতক সাইফুর ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।