রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া, আদাহিন্না, খলেয়া ও উজিয়ালসহ প্রায় ১০টি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কগুলো প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কগুলোর কোনো সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে খালের মতো হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানিতে সড়ক তলিয়ে গেলে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ডাক্তারপাড়া গ্রামে। সেখানে রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু ডাক্তারপাড়া নয়, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের অবস্থাও একই রকম। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও মাটি ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের অস্তিত্বই প্রায় বিলীন হওয়ার পথে।
ডাক্তারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে আমরা নিজেরাই বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছি। বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা অচল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে আসে। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এআরবি