লালমনিরহাটে তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ প্রজন্মের ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারী এবং তরুণেরা হবেন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারক। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এদিকে নির্বাচনি প্রচারে লালমনিরহাট-৩ আসনে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলুর স্ত্রী ও সন্তানেরা। তারা আলাদাভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাবার জন্য নির্বাচনি গণসংযোগে নেমেছেন দুলুর ছেলে আহনাফ হাবিব ইনতিসার। দিনভর তিনি লালমনিরহাট-৩ আসনে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বাবার পক্ষে ভোট ও দোয়া কামনা করেন।
এদিকে নারী ভোটারদের টার্গেট করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি ও উঠান বৈঠক করছেন লালমনিরহাটে-১ ও ৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীদের স্ত্রীরাও। ফলে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের স্ত্রীদের ভোট প্রার্থনা নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে নির্বাচনি প্রচারণায়। তবে সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে ভোটের দিন নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানো।
লালমনিরহাট-৩ আসনে আসাদুল হাবিব দুলু একদিকে প্রচারণায় গেলে অন্যদিকে যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি লায়লা হাবিব। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লালমনিরহাট সদরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি ও উঠান বৈঠক করেন তিনি।
অপরদিকে লালমনিরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিবের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা সুমিও স্বামীকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে ভোটের মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট-১ আসনে আলোচনা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।
অন্যদিকে লালমনিরহাট-২ আসনে তিস্তাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কৃষক ও নদীপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা এখানে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয়, গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের সমীকরণ কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়েই চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লালমনিরহাটে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য চাপ ও উত্তেজনা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে এবারের নির্বাচন শুধু দল বদলের নয় বরং লালমনিরহাটের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের লড়াই!