হোম > সারা দেশ > সিলেট

চার বছর পর উৎপাদনে ফিরেছে শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আংশিক উৎপাদনে ফিরেছে হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০২২ সালের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ৪৫ কোটি টাকার অভাবে চার বছরে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের দিন সঞ্চালন লাইনের একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তিনটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং অপরটি উদ্বোধনের কিছুদিন পরই বিকল হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার দুটি পুনঃস্থাপনে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিন অর্থ অনুমোদন না পাওয়ায় কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে সরকার মেরামত কার্যক্রমে অনুমোদন দেয়। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ১১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। গ্যাস টারবাইন-২ (জিটি-২) মেরামতের কাজ পায় চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সেপকো-১১১ ইলেক্টনিক পাওয়ার কন্সট্রাকশন’। প্রতিষ্ঠানটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ইউনিট আংশিক সচল করে উৎপাদন শুরু করে।

বর্তমানে ১১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, চলতি মাসের মধ্যেই ১৬৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। আর এতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, চার বছর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গ্যাসচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। ২০১৭ সালের ১ মার্চ তথকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রটি স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে কেন্দ্রটি ৫২ শতাংশ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে পরিচালিত হয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় করেছিল মাত্র ২ টাকা ৮৪ পয়সা, যা ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে শাহজীবাজার এলাকায় প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ সালে মোট ১০৪ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে এটি সে সময় দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পুরোনো ইউনিটগুলোর মেয়াদ শেষ হলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই স্থানে ২০০০ সালে ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়।

এছাড়া সর্বশেষ ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে ও সেটি এখন পর্যন্ত উৎপাদনে যেতে পারেনি।

দীর্ঘ চার বছর পর আংশিক উৎপাদন শুরুর ফলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কমলাভর্তি ট্রাক আটকে ছাত্রদল নেতার চাঁদাবাজি

কমলগঞ্জে গাছ চুরি করতে গিয়ে একজনের মৃত্যু, আরেকজন আহত

ভয়াবহ খরার কবলে কুলাউড়ার চা-বাগান, উৎপাদনে ধস

বিভিন্ন দপ্তর দলীয়করণে জবাব চাইব সংসদে : নাহিদ ইসলাম

ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মনিপুরী তাঁতশিল্পীরা

ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন, চট্টগ্রাম থেকে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

কমলগঞ্জে ফাগুয়া উৎসবে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

সংসদে প্রতীক বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন

দুই যুগ পর সিলেট অডিটোরিয়াম ফিরছে সাইফুর রহমানের নামে

নতুন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন