সুনামগঞ্জের ২০ জন স্কুল পড়ুয়া শিশু পেয়েছে শিশু সাংবাদিকতার বিশেষ প্রশিক্ষণ। শনিবার থেকে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত কর্মশালা শেষ হয়েছে রোববার বিকেলে। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এক সমাপনী আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়।
বিডিনিউজজের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শামস শামীমের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক ছায়াদ হোসেন সবুজের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হ্যালো’র প্রশিক্ষক মো. মনির হোসেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক সুচিত্রা রায় বলেন, উন্নত প্রযুক্তির যুগে বাস করছি আমরা। এখন সব কিছু সহজ হলেও এই প্রশিক্ষণ তোমাদের ভিত্তি গড়ে দিবে। প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞান পরবর্তী পেশাগত জীবনে বিশেষ কাজে দিবে।
তিনি আরো বলেন, এখন সহজ হয়েছে সাংবাদিকতা। প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক গুজব, মিথ্যা তথ্যও ভেসে বেড়ায়। তাই এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শুরুতেই তোমরা এই প্রশিক্ষণ পাওয়ায় ভাগ্যবান। এই গুজব ও মিথ্যা তথ্য থেকে দূরে থাকার সুযোগ করে দিবে এসব প্রশিক্ষণ। কিভাবে একটি নিউজ ও লেখা উপস্থাপন করতে হবে তা তোমাদের হাতে কলমে শিখা হয়েছে এই প্রশিক্ষণে।
তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা নিজেরা এই পেশায় না থাকলেও পরবর্তী জীবনে সচেতনতায় ও অগ্রসর কাজে এগিয়ে রাখবে, আপডেট রাখবে। সবসময় এগিয়ে রাখবে।
সুনামগঞ্জে বাল্যবিয়ের প্রবণতা রোধে কোমলমতি প্রশিক্ষণার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন বলেন, তোমরা ভাগ্যবান সাংবাদিকতার মতো বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছো। প্রান্তিক শিশুদের অধিকার, স্কুলের শিশুদের সমস্যা, সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা, সংকট নিয়ে কাজ করার বহু সুযোগ পাবে। এতে তোমাদেরও উপকার হবে প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের অন্য শিশুদেরও উপকারে আসবে। এই প্রশিক্ষণ আগামী দিনে তোমাদের নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যকেও মনে করিয়ে যথাযত কাজ করতে উদবুদ্ধ করবে।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে কবিতা আবৃত্তি করে শোনান প্রশিক্ষণার্থী শিশু জুবিন তালুকদার। এর আগে সবাইকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। কর্মশালায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার স্কুল ও মাদরাসা থেকেও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। তারা প্রশিক্ষণলব্দ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে।