সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীকে হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) প্রণীত নতুন বিপণন নীতিমালা সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার এবং পাম্পের শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী গত বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যতো পরিমাণ তেল উত্তোলন করেছে, গড়ে তার ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয়। দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
তারা জানান, নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা আরো জানান, সন্ধ্যায় সিলেট নগরের উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামের ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে ওই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।