চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছে শাখা ছাত্রদল। ইফতার মাহফিল শেষে শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিককে হেনস্তা এবং তার ফোন কিড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলেট করিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মাগরিবের নামাজের পর হাতাহাতিতে জড়ান ছাত্রদলের দুই পক্ষ। এ সময় ওই সাংবাদিক মসজিদের দ্বিতীয় তলায় থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
হেনস্তার শিকার হওয়া ওই সাংবাদিকের নাম মো. রিয়াদ ইসলাম। তিনি মর্নিং পোস্ট অনলাইন পোর্টালের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে সেটা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ও সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের অনুসারীদের মধ্যে হয় এই হাতাহাতি। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রিয়াদ ভিডিও ফুটেজ ধারণ করলে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুসারীরা তার ওপর চড়াও হয়।
কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে নামার পরই অজুখানায় সাংবাদিক রিয়াদকে ঘিরে ফেলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে মসজিদের একপাশে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনের গ্যালারি ও হোয়াটসঅ্যাপে এক সাংবাদিককে পাঠানো ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দেন ছাত্রদল সম্পাদক নোমান।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রিয়াদ ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ইফতার মাহফিল করে নামাজের পর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন আমি মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠে ছাত্রদলের মধ্য ভিডিও করতে শুরু করি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্রদলের কিছু কর্মী আমাকে দেখতে পেয়ে ধর ধর বলে চিৎকার শুরু করে। পরে আমি নিচে গেলে তারা আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
তিনি বলেন, পরে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ভাই আমাকে একপাশে নিয়ে গিয়ে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও এক সাংবাদিককে পাঠানো ভিডিও ডিলেট করে দেন। এ সময় তিনি বলেন, 'এখানে একমাত্র তুমিই আছো। কোনো নিউজ হলে সব দায় তোমাকে নিতে হবে।'
জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান আমার দেশের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলেট করার অধিকার নেই। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।