ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে গেস্টরুমে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আবার গেস্টরুমে নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ এবারই প্রথম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘ম্যানার শেখানো’র নামে সারা রাত তাদের বসিয়ে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালাগালি, অপমানজনক মন্তব্য এবং জোরপূর্বক আচরণ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের চার দিন ধরে নিয়মিত রাত সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে ইনস্টিটিউটের ৪৩তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
তারা আরো জানান, সাধারণত হোস্টেলের ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর কক্ষে এসব কার্যক্রম চললেও গত রোববার রাতে হোস্টেলের ডাইনিং রুমে প্রকাশ্যেই নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ৪৩তম ব্যাচের পাশাপাশি ৪২তম এবং তাদের সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সিনিয়রও উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, সিনিয়ররা এই কার্যক্রমকে ‘ম্যানার শেখানো’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে এটি মানসিক নির্যাতন এবং র্যাগিংয়ের শামিল। তিনি বলেন, নবীনদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় এবং কথা না শুনলে আরো বেশি সিনিয়রদের কাছে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গেস্টরুমে নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তিনি বলেন, জোর করে রাত জেগে সিনিয়রদের সামনে সালাম দেওয়া ও আত্মপরিচয় দেওয়ার মতো তথাকথিত ‘শিষ্টাচার’ পালনেও বাধ্য করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আনাস অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
অভিযুক্তদের আরেকজন ইব্রাহিম ‘পরিচিতিমূলক বৈঠক’ হওয়ার কথা স্বীকার করলেও গেস্টরুম বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত আল মোসাদ্দেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
শুধু লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অধীন ।
এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবীব ইমরোজ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ ও ডাকসু কর্তৃপক্ষ উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে চলতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে হোস্টেলের ওয়ার্ডেন ড. মো. ফরহাদ আলী জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।