রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ‘সি’ ইউনিটের অবিজ্ঞান শাখার ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উভয় শাখার জন্য পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয় ৪০। তবে বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক অংশে আলাদা নম্বরের শর্ত থাকলেও অবিজ্ঞান শাখার জন্য এমন কোনো শর্ত ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, অবিজ্ঞান শাখার ফলাফলেও বিজ্ঞান শাখার শর্ত প্রয়োগ করায় অনেক শিক্ষার্থী ফেল দেখানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাবিতে মোট ১২টি অনুষদের ৫৯টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন কোটায় ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা ও খেলোয়াড় কোটাও রয়েছে। তবে এসব কোটার অনেক আসনই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয় না। ফলে নির্ধারিত নম্বর পেলে কোটাধারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থাকে। অথচ ফেল দেখানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এসব কোটার অন্তর্ভুক্ত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হুমায়রা আক্তার লিজা জানান, তিনি পরীক্ষায় ৫৪ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়েও ফেল দেখানো হয়েছে। এতে তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা আমার সঙ্গে বড় অন্যায়। আমি চাই দ্রুত ফলাফল সংশোধন করে আমাদের প্রাপ্য সুযোগ দেওয়া হোক।”
আরেক শিক্ষার্থী শেখ সাইমুজ্জামান ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়েও ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার বাবা আকরামুজ্জামান বলেন, “আমার ছেলে প্লেয়ার কোটার শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়নি। এই ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল বাতিল করা উচিত।”
একইভাবে ৪৪ নম্বর পেয়েও ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. ফরহাদ হোসেন। তিনিও ফলাফল পুনঃপ্রকাশের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। তবে ফলাফল সংশোধনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃপক্ষের।”
‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান জানান, “সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। আগামী ১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে বৈঠক রয়েছে। সেখানেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে, দ্রুত ফলাফল সংশোধন ও পুনঃপ্রকাশের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।