হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ডাকসু নির্বাচন

মাহির কাইয়ুম, ঢাবি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের এ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হচ্ছে ক্যাম্পাস। অন্যদিকে নির্বাচন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন।

গত শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অমর একুশে হলের রিডিংরুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন ও আলাপ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. মেহেদী হাসান। নির্বাচনি বিধিমালার ৬(চ) ধারা অনুযায়ী পাঠকক্ষে প্রচারকাজ করা স্পষ্টতই নিষিদ্ধ।

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই বক্তব্য দেন ডাকসুর আরেক রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

তবে অভিযোগের জবাবে আবিদুল ইসলাম খান দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সৌহার্দপূর্ণ আহ্বানে তিনি রিডিংরুমে গিয়েছিলেন এবং এটি কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। অপপ্রচার না চালিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করলেই ভালো হয়।’

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না, সমানভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘ছাত্রদল রিডিংরুমে প্রচারকাজ চালালেও তা ধরা হচ্ছে না; অথচ আমাদের সামান্য বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়। টিএসসিতে তাদের ব্যানার-ফেস্টুন কি নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে না?’

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এসএম ফরহাদ অভিযোগ করেন, ‘আমরা যে অভিযোগ দিচ্ছি, কমিশন তা আমলে নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কমফোর্ট জোনে গিয়ে প্রচারকাজ চালানো হচ্ছে, যা স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন।’ তিনি আরো বলেন, অনলাইনে মিথ্যা প্রচারের শিকার হচ্ছেন তারা।

এর আগে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারও অভিযোগ করেছিলেন যে, ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী একাধিকবার বিধি ভঙ্গ করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পাল্টা অভিযোগ করেছেন এই বলে, স্বাধীনতার আদর্শ ধারণ না করা প্রার্থীদের অনুমতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষপাত করেছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলই একমাত্র সংগঠন যারা শৃঙ্খলভাবে নির্বাচন করছে এবং তারা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন চায়।

অন্যদিকে সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা ২৪-এর আন্দোলনের শক্তিকে অসম্মান করে।

নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা

এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম ও ১৮ হলের প্রাধ্যক্ষদের বৈঠকে কিছু অংশ সমান সুযোগ সৃষ্টির যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এদিন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া নির্বাচন পেছানো হবে না।

গত শনিবার কালো দিবস উপলক্ষে টিএসসি অডিটোরিয়ামে ড. নিয়াজ বলেন, ‘যতক্ষণ সবাই আমার হাত ধরবেন, আমি মাঠে থাকব। যেখানে আমার হাত ছেড়ে দেবেন, আমি পরিষ্কার জানিয়ে দেব কোন জায়গায় বাধা আসছে।’

তার এই বক্তব্য অনেকের কাছে নির্বাচন বানচালের আশঙ্কার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা পড়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদি মায়েদ বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব হচ্ছে কারা চাপ দিচ্ছে, তা প্রকাশ করা। বিন ইয়ামিন মোল্লা দাবি করেন, প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে একটি পক্ষ নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের ভেতরে কেউ কেউ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে।’

গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন প্যানেল সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির দাবি তুলেছে। ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ বলছে, নির্বাচনের আগে পরীক্ষা-অ্যাসাইনমেন্ট থাকায় প্রচারে ভাটা পড়েছে। বিজনেস ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্বাচনের সময় পরীক্ষা না রেখে পিছিয়ে দেওয়া হোক।

এদিকে বাম জোটের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের প্রার্থিতা বাতিল, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো, ৫-১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ব্যালটে ছবি সংযুক্তকরণ এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করা।

অন্যদিকে, চার সদস্যবিশিষ্ট আংশিক প্যানেলের সমাজসেবা সম্পাদক পদপ্রার্থী এবি জুবায়ের প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ফ্যাসিবাদী শিক্ষক এখনো প্রশাসনে বহাল রয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বে ডাকসু নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

সব পক্ষ থেকেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সমর্থন থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ, প্রশাসনের ওপর চাপ এবং নির্বাচন বানচালের গুঞ্জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এমনকি সর্বোচ্চ প্রার্থিতা বাতিল বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে।

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান