জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘বিচার বিচার বিচার চাই, শারমিন হত্যার বিচার চাই’, ‘জাগো জাগো, ভয় কিসের? বিচার চাই শারমিনের’, ‘রক্ত ঝরেছে-থামবো না! বিচার ছাড়া-যাবো না’, ‘হাতে হাত, কণ্ঠ এক-বিচার চাই, নেই কোন ফেক’, ‘শারমিন ডাকে-শুনো সবাই! ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাই’ ইত্যাদি লেখা দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
নিহত শারমিন জাহানের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্না শ্রুত কন্ঠে বলেন, আমি আমার মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি কিন্তু কিভাবে কি হলো সেটা আমি জানি না। আমার মেয়েটাকে যে মারলো বা যারা মারলো এদের শাস্তি আর সুষ্ঠু বিচার যেনো পাই এটাই আমার চাওয়া।
জাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান তার ভাড়াটিয়া বাসায় স্বামী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী ফাহিম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন, জবানবন্দি বার বার পরিবর্তন করছেন। আমরা এই মামলার খুবই তীক্ষ দৃষ্টি রাখছি, মানববন্ধন থেকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বাহ্যিক কোনো হস্তক্ষেপ এই মামলা কোনোভাবেই যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে আমরা সেই বার্তা এখান থেকে দিতে চাই এবং সেই জায়গায় সচেষ্ট থাকবো। মামলার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবো।
লোক-প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হরে কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমরা এখন পর্যন্ত সঠিক কারণ কি সেটা আমরা জানি না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা চাই না। বিচারহীনতা চলতে থাকলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং আমাদের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমাদের পক্ষে থেকে বিনীত নিবেদন, আপনারা আমাদের সহোযোগিতা করুন, অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।
এ ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মোবাইল ফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে মনিরুল ইসলাম তাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে ও মাথার ওপরে গভীর কাটা জখমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিনই (১৫ মার্চ) শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ শারমিনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গত ২৪ মার্চ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ফাহিমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৭ মার্চ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ফাহিমকে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।