হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

বিনয়ী মহানবী (সা.) ও বিচারপ্রার্থী ইহুদি

তানজিলা মেহের নন্দিতা

আমাদের রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) একদিন মসজিদে নববিতে বসে তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সে সময় সেখানে এক ইহুদি এসে দাঁড়াল। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাসেম নামের এক ছেলে ছিল। তাই লোকটি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কাসেমের পিতা বলে সম্বোধন করে ডেকে চলল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইহুদি লোকটিকে আরো একটু কাছে ডেকে নিলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন ইহুদি লোকটির মুখ লাল হয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেউ তাকে মেরেছে।

ইহুদি লোকটি বলল, হে কাসেমের পিতা! আমি আপনার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছি। আমি সুবিচার প্রার্থনা করছি।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, কী হয়েছে আগে সে কথা বলো। কীসের ওপর তুমি সুবিচার চাইছো?

ইহুদি লোকটির চোখেমুখে তীব্রতা লক্ষ করা গেল। সে বলল, আপনার এক সাহাবি আমাকে ঘুসি মেরে জখম করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছি। আমি এর বিচার চাই।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কোন সে সাহাবি? তার নাম জানো?

ইহুদি জবাব দিল, নাম জানি না। তবে সে এক আনসার সাহাবি, হুজুর।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বললেন, আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি বিচার করব। তুমি সেই আনসারকে ডেকে নিয়ে এসো।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আশ্বাস পেয়ে ইহুদি লোকটি সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে নববি থেকে বের হয়ে গেল। আর কিছুক্ষণ পর সে অভিযুক্ত আনসারকে নিয়ে ফিরে এলো। দুজন তখনো নিজেদের মধ্যে তর্ক করে যাচ্ছিল।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) আনসারকে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে বলো তো? তুমি একে মেরেছো কেন?

আনসার বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! এ কথা সত্যি যে আমি তাকে মেরেছি। সে যে অন্যায় করেছে, সে জন্য আমি তাকে না মেরে পারিনি। অমন ব্যবহার যদি সে আবার করে, তবে আবার আমি তাকে মারব। ছাড়ব না।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বললেন, তাহলে বলো সে কী অন্যায় করেছে?

আনসার বলল, আমি বলেছিলাম হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর মনোনীত রাসুল। তিনি খুব মর্যাদাবান। কিন্তু এই ইহুদি বলেছে, আমার কথা ঠিক নয়। সে বলেছে, হজরত মুসা (আ.) নাকি আপনার চেয়েও বেশি মর্যাদাবান। ওর এই অহংকারে ভরা কথা আমি সহ্য করতে পারিনি। ওর দুঃসাহস আমাকে রাগিয়ে দিয়েছিল। আল্লাহর নবীর প্রতি অসম্মান দেখিয়ে কথা বলায় আমি তাকে মেরেছি।

ইহুদির দুঃসাহসের কথা শুনে সেখানে উপস্থিত থাকা অন্য সাহাবিরাও উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। তারাও মনে কষ্ট পেলেন। তারা ইহুদিদের বাড়াবাড়ি নিয়ে সমালোচনা করতে লাগলেন। তারা বললেন, মদিনার ইহুদিরা অনেক বেড়ে গেছে। ওদের এখনই উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার। নইলে আরো বেড়ে যাবে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তাদের কথার মধ্যে কোনো কথা বলেননি। হঠাৎ তিনি নীরবতা ভেঙে আনসারের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, তোমরা এসব কথাবার্তা বোলো না।

আনসাররা বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! ইহুদিরা আমাদের ছোট করবে, আপনি আল্লাহর নবী (সা.)। আপনাকে উপহাস করবে, যা ইচ্ছে তা বলবে আর সেসব শুনেও আমরা চুপ করে থাকব?

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তোমরা চুপ করেই থাকবে।

সাহাবিরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা শুনে অবাক হলেন। বিস্মিত হলেন সেই আনসারও। তাদের কারো মুখে আর কোনো কথা বের হলো না। সবাই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মুখের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইলেন।

একটু পর সেই মজলিশে থাকা ইহুদি, অভিযুক্ত আনসার আর সাহাবিরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আরেকটি কথা শুনে আরো অবাক হলেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা আমাকে অন্য কোনো নবীর ওপর প্রাধান্য দিও না। আমি বড় নইÑছোটও নই। আমি যা আছি তাই আছি। তোমরা অন্য নবীকে ছোট মনে করে আমাকে বড় বলে ভেবো না। তোমরা যদি এমন ভাবো, তাহলে আমাদের মনে অহমিকা আসবে। অহংকার আমাদের তাড়া করবে। তোমরা জেনে রেখো, অহংকার করা নিষেধ। আল্লাহতায়ালা কোনো অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে কত বড় ন্যায়পরায়ণ ও বিনয়ী ছিলেন, তা তাঁর এই কথা থেকেই বোঝা যায়।

লালবাগ কেল্লা

মসজিদে নববির স্মৃতি

স্কুলব্যাগের দুই বন্ধু

ঈদুল আজহা : খুশি আর শেখার উৎসব

খুঁজে পাওয়া গেছে মিশরীয় বন্দর হেরাক্লিয়ান

লম্বা গলার প্রাণী জিরাফ

এক ফোঁটা লাল রঙ

যে পাথর নিজে নিজে চলে

সামুদ্রিক সাপ

একটি ছেঁড়া জুতো ও কুকুরের গল্প